ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভোলায় জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও আলোচনা সভা উপস্থাপক নিশাত শাহরিয়ারকে কালো তালিকাভুক্ত করা আওয়ামী ফ্যাসিবাদীরা এখনো বহাল বাংলাদেশ বেতারে মিরপুর মাজার রোডে হোটেল ঈগলে স্পার নামে চলছে দেহ ব্যবসা ও ব্ল্যাক মেইলিং রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার বেসরকারি হাসপাতাল সমূহ সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের পিতার মৃত্যুতে এবি পার্টির গভীর শোক নারীকে অপহরণের চেষ্টায় অভিযুক্তদের ৩ জন গ্রেপ্তার বাগাতিপাড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে কৃষকের ওপরে সশস্ত্র হামলা ভোলায় জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত ভোলা ভেদুরিয়া সিরাজ মাঝির অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসীর মানববন্ধন বড়লেখায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটির ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

বাঁশচাষ থেকে রপ্তানি: সবুজ অর্থনীতির নতুন পথে বাংলাদেশ

#

শোয়েব হোসেন

০১ নভেম্বর, ২০২৫,  2:47 PM

news image

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল “বাঁশ গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র” (Bamboo Research and Development Center) নামে একটি প্রতিষ্ঠান, যা বাঁশকে কেন্দ্র করে পরিবেশবান্ধব শিল্প, স্থাপত্য, কৃষি ও প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে।

কেন্দ্রটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জসিম উদ্দিন রাজা বলেন, “বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে বাঁশের সম্পর্ক হাজার বছরের পুরোনো। দেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে বাঁশঝাড় দেখা যায় না। গৃহনির্মাণ থেকে শুরু করে হস্তশিল্প, কৃষিকাজ, বাদ্যযন্ত্র—সব ক্ষেত্রেই বাঁশ একটি অপরিহার্য উপাদান। তাই এই অমূল্য সম্পদকে বৈজ্ঞানিকভাবে সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বহুমুখী ব্যবহারের লক্ষ্যেই আমরা এই কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছি।”

জসিম উদ্দিন রাজা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো বাঁশের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব শিল্প, স্থাপত্য ও কৃষি প্রযুক্তি বিকাশ করা। একই সঙ্গে বাঁশচাষের আধুনিক পদ্ধতি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।”

কেন্দ্রটি নিম্নোক্ত যেসব ক্ষেত্রে গবেষণা পরিচালনা করবে—

বাঁশের প্রজাতি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন

স্থানীয় ও বিদেশি প্রজাতির তুলনামূলক গবেষণা

দ্রুত বর্ধনশীল ও কীটনাশক-সহনশীল জাত উদ্ভাবন

বাঁশ ট্রিটমেন্ট ও স্থায়িত্ব প্রযুক্তি

পরিবেশবান্ধব রাসায়নিক ও প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ উদ্ভাবন

আউটডোর ব্যবহারের উপযোগী টেকসই বাঁশ উৎপাদন

বাঁশ স্থাপত্য ও ডিজাইন উদ্ভাবন

আধুনিক “ইকো ডিজাইন” ধারণার প্রয়োগ

আর্কিটেকচারাল গবেষণার মাধ্যমে বাঁশের কাঠামোগত ব্যবহার

বাঁশ শিল্প ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন

বাঁশভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (SME) গড়ে তোলা

রপ্তানিযোগ্য বাঁশজাত পণ্য উদ্ভাবন

পরিবেশ ও জলবায়ু গবেষণা

বাঁশের কার্বন শোষণ ক্ষমতা নিরূপণ

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাঁশের ভূমিকা বিশ্লেষণ

টেকসই উন্নয়নের পথে সবুজ ভবিষ্যৎ

কেন্দ্রটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDGs)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করবে—বিশেষ করে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজ অর্থনীতি, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে।

জসিম উদ্দিন রাজা বলেন, “বাঁশ কেবল একটি উদ্ভিদ নয়, এটি একটি সবুজ বিপ্লবের প্রতীক। আমাদের লক্ষ্য হলো এই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া।”

কেন্দ্রটি আন্তর্জাতিক সংস্থা INBAR (International Bamboo and Rattan Organization), বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

এছাড়াও গবেষণা প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ও সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বাঁশের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা সম্পর্কে অবহিত করা হবে।

পরিশেষে জসিম উদ্দিন রাজা বলেন, “বাঁশ শুধু অতীতের ঐতিহ্য নয়, এটি ভবিষ্যতের সম্ভাবনাও বটে। এই কেন্দ্রের কার্যক্রম কৃষক, কারিগর, উদ্যোক্তা ও পরিবেশপ্রেমীদের একত্র করবে একটি সবুজ বাংলাদেশের স্বপ্নে।”

“বাঁশ গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র”-এর আত্মপ্রকাশ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবুজ স্থাপত্য, পরিবেশবান্ধব শিল্প ও টেকসই অর্থনীতির পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।