নিশাত শাহরিয়ার
১৩ মার্চ, ২০২৬, 6:42 PM
মিরপুর মাজার রোডে হোটেল ঈগলে স্পার নামে চলছে দেহ ব্যবসা ও ব্ল্যাক মেইলিং
রাজধানীর অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে গোটা রাজধানী জুড়ে যত্রতত্র গড়ে ওঠা মিনি পতিতালয়ে স্পা সেন্টারের নামে এসব জায়গায় চলছে নারী পাচারসহ ভয়াবহ ব্ল্যাক মেইলিং।
রাজধানীর মিরপুর-১ নাম্বারে লালকুঠি বড় মসজিদের পাশে অবস্থিত হোটেল ঈগলে দেহ ব্যবসা, নারী পাচারসহ অত্যাধুনিক গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে গোপন দৃশ্য ধারন করে ব্ল্যাক মেইল করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মিরপুর মাজার রোডের কাছে মিরপুর স্পেশালাইজড হাসপাতালের উপরে লিফটের ৭ তলায় অবস্থিত এই স্পা সেন্টারটি দীর্ঘদিন থেকে এভাবেই তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ঐ প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত একজন প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন এবং প্রভাবশালী মহলের সাথে যোগাযোগ রেখেই তারা নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনা করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে রেইড দিয়ে কিংবা পত্রিকায় নিউজ করে কোন লাভ হবে না বলে বেশ আত্ববিশ্বাসের সাথে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই কর্মী।
ঈগল নামের এই আবাসিক হোটেল কাম স্পা সেন্টারটিতে চলছে নানারকম অনৈতিক কর্মকান্ড। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কম বয়েসী মেয়েদের চাকরির প্রলোভন দিয়ে ডেকে এনে আটকে রেখে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করেন এই প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা। পতিতাবৃত্তি, মাদক সেবন, ব্ল্যাকমেইলসহ নানা অপরাধ সংগঠিত করার জন্য অপরাধীদের অভয়ারন্যে পরিনত হয়েছে ঈগল নামের এই হোটেলটি।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, খদ্দের নিশ্চিত হলে তারপর ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। তবে ভেতরে নানা রংয়ের আলোর ঝলমলে পরিবেশ হলেও বাইরে থেকে বোঝার কোন উপায় নেই এটি যে এক অন্য দুনিয়া। ভেতরে প্রবেশ করলেই নাকি চোখে পড়ে স্কুল-কলেজ ও ভার্সিটি পড়ুয়া তরুণীসহ বিভিন্ন বয়েসী নারীদের আনাগোনা।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তারা বলেন, রাতারাতি আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় স্পা ব্যবসার আড়ালে কম বয়েসী তরুণীদের দিয়ে পতিতাবৃত্তির কাজ করাচ্ছেন মালিক ও তার সঙ্গীরা। পতিতা ব্যবসার পাশাপাশি মাদক সরবরাহেরও অভিযোগ রয়েছে হোটেল ঈগলের বিরুদ্ধে।
স্পার আড়ালে দেহ ব্যবসা পরিচালনাকারী এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক বিক্রির অভিযোগ। উঠতি বয়েসী তরুণীদের দিয়ে গ্রাহকদের স্পা করানোর নামে স্বল্প পোশাকের ছবি গোপনে ধারণ করে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়।
জানা যায়, বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত মাসিক মাসোয়ারা দিয়ে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে এই প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকে। ম্যাসেজ পার্লার ও দেহ ব্যবসা চালানোর অভিযোগ থাকা স্বত্তেও উক্ত প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বরং নিয়মিত অবৈধ লেনদেনের বিনিময়ে নির্বিঘ্নে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যায় বলে দাবী করেন পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ঈগল হোটেলের এক কর্মী।
অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী পরিবারের উঠতি বয়সের কিশোর-যুবক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়েসি মানুষ এসব হোটেল কাম স্পা সেন্টারের (পতিতালয়) নিয়মিত সেবা গ্রহীতা। বিভিন্ন সময় ধনীর দুলালদের সেবা দেয়ার জন্য স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণীদের ভাড়া করে আনা হয় এই ঈগল হোটেল কাম স্পা সেন্টারে।
মিরপুর মাজার রোডের স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, ব্যবসার নামে এসব অপকর্ম বন্ধ করতে বললে বিভিন্নভাবে বিভিন্নজনকে হুমকি দেয়া হয়। অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ঐ ভবনের আশপাশে সব সময়ই পাহারায় থাকে মালিক পক্ষের লোকজন। স্থানীয়রা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করলে এই প্রতিষ্ঠানটির পাশাপাশি অন্যরাও অপকর্মের জায়গা থেকে সরে আসতে বাধ্য হবে।
হোটেল ঈগল নামে পরিচিত এই স্পা সেন্টারটিতে অনৈতিক কাজের জন্য রয়েছে ছোট ছোট বেশকিছু রুম। স্কুল-কলেজের উঠতি বয়েসি ছেলেরাসহ যুব সমাজের একটি বড় অংশই খদ্দের হিসেবে যাতায়াত করে এখানে। খদ্দেরদের আকর্ষণ বাড়াতে ফেসবুকে চটকদার বিজ্ঞাপনসহ টেলিগ্রাম অ্যাপে নিয়মিত দেয়া হয় তরুণীদের খোলামেলা ছবি।
আমাদের দেশে এমন অনৈতিক উপায়ে স্পা কিংবা হোটেল ব্যবসা পরিচালনার জন্য বৈধ কোন অনুমতি নেই। সিটি কর্পোরেশন থেকেও এমন কোন অনুমতি দেয়া হয়না। তবে সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে হোটেল, বিউটি পার্লার, সেলুন কিংবা ব্যায়ামাগারের কথা বলে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে লাইসেন্সের নীতিমালা ভঙ্গ করে চলছে এসব অনৈতিক ব্যবসা।
অভিযোগ রয়েছে এই স্পা সেন্টারে অত্যাধুনিক ডিজিটাল গোপন ক্যামেরা দিয়ে ধনী ব্যবসায়ীসহ উচ্চ পদস্থ খদ্দেরদের ব্ল্যাকমেইল করা হয়। তারপর পরিবার কিংবা পরিচিতজনদের কাছে গোপন ক্যামেরায় ধারন করা ঐসব ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়।