সাইফুল ইসলাম একা
০৮ অক্টোবর, ২০২৫, 6:25 PM
সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে কুচক্রী মহলের মিথ্যে ও বানোয়াট প্রচারণা
মিছিলের দ্বিতীয় সারিতে থাকা ছাত্রলীগ কর্মী থেকে সমন্বয়ক আকাশ। ৫ই আগস্টের পর সমন্বয়ক আকাশের আতঙ্কে এলাকাবাসী। মব সৃষ্টি করা, সাধারণ মানুষের বাড়িতে আওয়ামী ট্যাগ দিয়ে তল্লাশি, চাঁদাবাজী ও সাংবাদিকদের উপর হামলা, কিশোর গ্যাং পরিচালনাসহ এমন হাজারো অভিযোগে জড়িত আসাদুজ্জামান আকাশকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
তবে আকাশ ও তার দুই সহযোগীকে আটকের পর সম্প্রতি তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে সামাজিক মাধ্যমে কিছু পুরোনো ছবি পোস্ট করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যেখানে বলা হচ্ছে সেনাবাহিনী কর্তৃক তাদেরকে আটকের পর নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন একটি অভিযোগ। যে ছবিগুলো দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হচ্ছে তা ৫ই আগস্টের পর বিভিন্ন জেলায় সহিংসতার অপরাধে গ্রেফতার সন্ত্রাসীদের চিত্র।
আকাশকে গ্রেফতারের সময় ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন সাংবাদিক বলেন, আকাশকে গ্রেফতারের পর সেনাবাহিনী আসামীদের থানায় হস্তান্তর করলে সাংবাদিকরা ভিডিও ধারনের জন্যে থানায় গেলে দেখা যায় আকশা ও তার দুই সহযোগী খুব হাসি-ঠাট্টা করতে করতে থানায় প্রবেশ করে। আর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য বলেন জামিনে বের হয়ে ভিডিও পিছনে দিবো। এসব ঘটনার সাথে সেনাবাহিনীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণে নেয় সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি,মব সৃষ্টিসহ সাধারণ মানুষকে আওয়ামী ট্যাগ দিয়ে বাসা বাড়ি তল্লাশি ও মিথ্যা প্রচারণা এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির একাধিক প্রমাণ মিলেছে। এরপর সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, সমন্বয়ক পরিচয় ব্যবহার করে আকাশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, দোকানদার ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা দাবি করতেন। অনেকে ভয়ভীতির কারণে বাধ্য হয়ে তার দাবিকৃত অর্থ দিতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়াও ৫ই আগস্টের পর হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলার আসামিদের হুমকি ধামকি দিয়ে মোটা অংকের চাঁদা নেওয়া ছাড়াও হত্যা মামলা বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন ছাত্রলীগ কর্মী আকাশ।
এছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসায়ীসহ অসংখ্য মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেও মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছে আকাশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, আমরা বহুদিন ধরে এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছিলাম। অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, আসাদুজ্জামান আকাশের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শেষে তাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মিথ্যা প্রচারের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর চেষ্টা বাড়ছে। সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উত্তরার সাধারণ মানুষ এই গ্রেফতারকে স্বস্তিদায়ক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, সেনাবাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে এলাকায় আবারও শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ফিরে এসেছে।