ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
বিএনপির চাপে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন ঘাটাইলে কর্মচারীর হাত-পা বেঁধে দুর্ধর্ষ গরু চুরি লুমিনাস গ্রুপ সেলিব্রেশনে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাগাতিপাড়ায় খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে ব্যারিস্টার পুতুল বটিয়াঘাটায় ‘গণভোট ২০২৬’ বিষয়ক জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত জিপিএফ-সিপিএফের সুদের হার অপরিবর্তিত পোশায় জিয়াউর রহমানের ৯০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া অনুষ্ঠিত কচুয়ায় আইনের লোক পরিচয়ে দুই ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম ইসি: মির্জা ফখরুল কাঁকৈরতলা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার গভর্নিং বডির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ বেতারে হাতে গোনা কয়েকজন এনাউন্সারের কারণে বঞ্চিত বাকিরা, নিরব কর্তৃপক্ষ

#

নিশাত শাহরিয়ার

২০ ডিসেম্বর, ২০২৫,  7:47 PM

news image

বাংলাদেশ বেতার। সব সময় সবখানে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আবহাওয়া বার্তা, খেলাধুলার সংবাদ, জরুরী বিজ্ঞপ্তি, দেশ ও জাতির প্রয়োজনে যে কোন জরুরী সিদ্ধান্ত প্রচারসহ নাটক, অনুষ্ঠান, সঙ্গীতে ভরপুর বাংলাদেশ বেতার। তাইতো প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সময়ের সাথে সাথে বাংলার আনাচে কানাচে সর্বত্র বাংলাদেশ বেতার যেন সকল শ্রোতার কাছে প্রিয় গণমাধ্যমে পরিণত হয়েছে। 

বাংলাদেশ বেতারের সকল অনুষ্ঠান এবং সংবাদ প্রচারের জন্য কাজ করছে একদল উপস্থাপক- উপস্থাপিকা। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয়- বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ করে ঢাকার সদর দপ্তরের অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়মিত অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য যে কয়টি সেকশন রয়েছে সকল সেকশনে একচেটিয়া কাজ করছেন হাতে গোনা ১০-১২ জন উপস্থাপক-উপস্থাপিকা। 

অথচ বাংলাদেশ বেতারে বর্তমানে প্রায় ৩০০ কিংবা তার কাছাকাছি অনুষ্ঠান উপস্থাপক-উপস্থাপিকা রয়েছেন বলে জানা যায়। তাদের অধিকাংশেরই চেষ্টা, আগ্রহ, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্যাকেজ অনুষ্ঠান, প্রামাণ্য অনুষ্ঠান, বিশেষ দিবসের জন্য অনুষ্ঠান কিংবা লাইভ অনুষ্ঠান- কোন কিছুই তাদের করতে দেয়া হয় না কিংবা তারা আগ্রহ দেখালেও গুরুত্ব দেয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। 

বঞ্চিত বেশ কয়েকজন অনুষ্ঠান উপস্থাপক-উপস্থাপিকা নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, বাস্তবতা এমন হয়েছে যেন হাতে গোনা মাত্র ১০-১২ জন অনুষ্ঠান উপস্থাপক-উপস্থাপিকা বাংলাদেশ বেতারের অঘোষিত নিয়ন্ত্রকে পরিণত হয়েছে। কারো বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও রয়েছে- ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরকারি চাকরিজীবী হয়েও তিনি অফিস চলাকালীন সময়ে নিজের অফিস ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশ বেতারে এসে নিয়মিত রেকর্ডিং করছেন, অনুষ্ঠান প্রচারে বিভিন্ন কাজ করছেন এবং তা দীর্ঘদিন থেকেই করে আসছেন অবলীলায়। আর মাস শেষে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার চেক উত্তোলন করছেন বছরের পর বছর ধরে। সবকিছু জেনেও, দেখেও যেন বলার কেউ নেই।

বঞ্চিত অ্যানাউন্সাররা জানান, বাংলাদেশ বেতারে নিয়মিত প্রচারিত কিছু কিছু প্যাকেজ অনুষ্ঠান একজনকে দিয়েই একাধিক দিন উপস্থাপন করানো হচ্ছে। অথচ একই যোগ্যতা কিংবা তার চেয়ে ভালো যোগ্যতার  উপস্থাপক উপস্থাপিকা থাকা সত্ত্বেও সেই অনুষ্ঠানগুলোতে তাদের যুক্ত করা হচ্ছে না। কেউ কেউ যদি আগ্রহ দেখায় তাহলে কৌশলে তাকে মানা করা হয়। অনেক সময় দিব, দিচ্ছি, দেখি- এভাবে করে কোনোভাবেই সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। 

বাংলাদেশ বেতারের বহিঃবিশ্ব সার্ভিসের গত নভেম্বর মাসের অনুষ্ঠান সিডিউল পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, দুইজন অনুষ্ঠান উপস্থাপক নিয়মিত সংবাদ পড়ার পাশাপাশি ২/৩ টি প্যাকেজ অনুষ্ঠান গ্রন্থনা ও উপস্থাপনাসহ বিভিন্ন সেগমেন্টে কাজ করছেন। অথচ বাংলাদেশ বেতারে অসংখ্য এনাউন্সার থাকা সত্ত্বেও কিংবা অনেকের কাজের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তাদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, কেউ নাকি আগ্রহ দেখায় না, কেউ নাকি যোগাযোগ করেন না। তাছাড়া অনেককে নাকি যথাসময়ে পাওয়া যায় না। অথচ ভুক্তভোগী অ্যানাউন্সাররা জানান, এসব আসলে সুযোগ না দেওয়ার জন্য বলা হয়। 

এফএম ৯২ মেগাহার্জে একই ব্যক্তিকে সপ্তাহে একাধিক দিন বিকল্প ডিউটি দেয়া হচ্ছে। অথচ এফএম ৯২ মেগাহার্জে যারা কাজ করতে চান কিংবা অনেকদিন থেকে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন  তাদেরকে কোনভাবেই সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। হাতে গোনা কয়েকজনের হাতেই জিম্মি হয়ে আছে এফএম ৯২। একটা সরকারি প্রচার মাধ্যমে সকলেরই যোগ্যতা সাপেক্ষে কাজ করার সুযোগ থাকা উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। 

কৃষি বিষয়ে যেসব অনুষ্ঠান বাংলাদেশ বেতারে প্রচারিত হয় সেখানেও রয়েছে চরম বৈষম্য। কয়েকজন অ্যানাউন্সার দীর্ঘ দিন ধরে একচেটিয়া অনুষ্ঠান করে আসছেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, ইচ্ছে করেই একই ব্যক্তিকে বারবার অনুষ্ঠান দেয়া হয়। কেন দেয়া হয়, কি কারণে দেয়া হয়- এসবই শুধু জানার আগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে। ৫ আগস্ট এর গণঅভ্যুত্থানের পর জবাবদিহিতার বাংলাদেশে অনেকেই জানতে চান, কি কারনে কৃষিতে একচেটিয়া বছরের পর বছর ধরে কয়েকজনকেই অনুষ্ঠান করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। 

স্বাধীন বাংলার বাঁকে বাঁকে যেখানে মিশে আছে স্বাধীনতার ইতিহাস সেই রূপসী বাংলার অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো রয়েছে চরম বৈষম্য, এক চোখা নীতি, তাচ্ছিল্য করার মানসিকতা, যোগ্যতাকে পদদলিত করে তেলবাজিকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার তীব্র প্রতিযোগিতা। এমন বাংলাদেশ আমরা চাইনি, চায়নি জুলাই আন্দোলনে নিহত সৈনিকেরা। আগামীর বাংলাদেশ হবে সবার জন্য- এমনই প্রত্যাশা করেন সচেতন মহল।