ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
হরিপুরে বিদ্যুৎ স্পষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যু নেতৃত্বের গল্প শোনাতে তানজানিয়া যাচ্ছেন শ্যামনগরের অপর্ণা মল্লিক কালীগঞ্জে সৌদী বাদশাহ’র খেজুর পেল ৩০ মাদ্রাসা ও এতিমখানা ভোলা জেলা পুলিশের আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত পোরশা থানায় ইফতার মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত লাকসাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোজ খাদ্যে ব্যবহারে জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান সিলগালা জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব প্রসঙ্গে গণতন্ত্রী পার্টির বিবৃতি এক ফসলা বৃষ্টিতে প্রান ফিরেছে চা বাগানে আশুলিয়ায় সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

গাইবান্ধার নন্দিত জনপ্রতিনিধি আব্দুর রশীদ সরকার

#

বিপ্লব চৌধুরী (বিশেষ প্রতিনিধি)

২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫,  2:18 AM

news image

মাত্র ২০ বছর বয়সে জনপ্রতিনিধি হয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে গাইবান্ধার মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন আব্দুর রশীদ সরকার। পৌর কমিশনার থেকে শুরু করে পৌর চেয়ারম্যান, জাতীয় সংসদ সদস্য এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান—প্রতিটি স্তরেই তিনি রেখে গেছেন উন্নয়নের সুস্পষ্ট ছাপ।

১৯৭৩ সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বি.এ প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় জনগণের ভোটে গাইবান্ধা পৌরসভার কমিশনার নির্বাচিত হন আব্দুর রশীদ সরকার। এত কম বয়সে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা দেশে বিরল।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে গাইবান্ধা কলেজে মুক্তিযোদ্ধার প্রশিক্ষণ নেন আব্দুর রশীদ সরকার। পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পাইপগান তৈরির সময় এক দুর্ঘটনায় তাঁর ডান হাতের একটি আঙুল হারান। যদিও তিনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি, তবে দেশের জন্য কিছু করতে পারার গর্বই তাঁর কাছে বড় বলে জানান তিনি।

পৌর কমিশনার নির্বাচিত হওয়ার এক বছরের মধ্যেই ১৯৭৪ সালে দেশজুড়ে শুরু হয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। সে সময় তিনি মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে রুটি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেন। মানুষের ভালোবাসায় ১৯৭৬ সালে পুনরায় কমিশনার নির্বাচিত হন তিনি।

১৯৮৪ সালে গাইবান্ধা পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি পৌর এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেন। তাঁর উদ্যোগেই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গাইবান্ধা সফর করেন এবং এসডিও মাঠে গাইবান্ধা মহকুমাকে জেলা ঘোষণা করা হয়।

চেয়ারম্যান থাকাকালীন তিনি ঘাঘট নদের ওপর কাঠের পুলের পরিবর্তে পাকা সেতু নির্মাণ, শহরের মাস্টারপাড়া ও খানকাশরীফ এলাকায় পানির ট্যাংক স্থাপন এবং দুই নম্বর রেলগেট এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ করেন, যা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনে।

আব্দুর রশীদ সরকার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কার্যালয়, আধুনিক হাসপাতাল এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের জায়গা নির্ধারণ কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সময়েই গাইবান্ধা পৌরসভার সীমানা বৃদ্ধি পেয়ে পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়।

১৯৮৬ সালে প্রথমবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে অল্প ভোটে পরাজিত হলেও ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে গাইবান্ধা সদর আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এমপি হিসেবে তিনি গাইবান্ধা-বালাসি সড়কের আলাই নদীর ওপর আরসিসি সেতু নির্মাণ, ঘাঘট নদের গতিপথ পরিবর্তন, নতুন ব্রিজ নির্মাণসহ অসংখ্য সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করেন।

শিক্ষা খাতে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। তাঁর উদ্যোগেই গাইবান্ধা সরকারি কলেজে অনার্স কোর্স চালু হয়। তিনি গাইবান্ধা আদর্শ কলেজকে ডিগ্রি কলেজে উন্নীত করেন এবং তুলসীঘাট কলেজ, দারিয়াপুর কলেজ ও লক্ষ্মীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

২০০৮ সালে বিপুল ভোটে গাইবান্ধা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করায় স্থানীয়দের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করেন তিনি। লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে তাঁর নামে ‘এমপির বাজার’ প্রতিষ্ঠা তারই প্রমাণ।

একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে কখনো দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠেনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের সেবা করতে চান বলে জানান আব্দুর রশীদ সরকার। সে লক্ষ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-২ আসন থেকে প্রার্থী হয়ে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন প্রত্যাশা করছেন।