মো: আল আমিন (বিশেষ প্রতিনিধি)
০৯ অক্টোবর, ২০২৫, 10:34 AM
এনসিপিকে পাশে পেতে বিএনপি-জামায়াতের ভিন্ন কৌশল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের গড়া নতুন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর প্রোটেকশন (এনসিপি)-কে ঘিরেই এখন ভোটের মাঠে তীব্র টানাপোড়েন চলছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উভয়েই চাইছে এনসিপিকে পাশে রাখতে। তবে তাদের কৌশল ভিন্ন, আর এনসিপিও দোটানায়— ডানপন্থি 'ট্যাগ' এড়ানো এবং প্রত্যাশিত সংখ্যক আসনে জয় নিশ্চিত করা।
বিএনপি চাইছে এনসিপিকে তাদের জোটভুক্ত করতে। তবে মূল লক্ষ্য হলো নতুন এই দলটিকে জামায়াত থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নতুন ছাত্রনেতাদের দলসহ অন্য দল নিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তুতির কথা বলায় এই সমঝোতার বিষয়টি আরও জোরালো হয়েছে।
বিএনপি এনসিপিকে পাশে চাইলেও প্রত্যাশিত সংখ্যক আসন (৫০-৬০টি) ছাড়তে রাজি নয়। এনসিপি মনে করছে, বিএনপি ২৫-৩০ আসনে ছাড় দিলেও তাদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি।
এনসিপি নেতাদের ভয় কেন্দ্রীয়ভাবে আসন ছাড় দিলেও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে সাংগঠনিক ও আর্থিক সামর্থ্যে পিছিয়ে থাকা এনসিপি প্রার্থীরা মাঠে টিকতে পারবেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা বিএনপির সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী ঐক্যে আগ্রহী। এই ঐক্য না হলে উপদেষ্টাদের অন্তত একজন ঢাকায় বিএনপির প্রতীকে প্রার্থী হতে পারেন।
অন্যদিকে জামায়াত সরাসরি জোট না হলেও এনসিপির সঙ্গে অন্তত একটি নির্বাচনী সমঝোতা করতে আগ্রহী। তাদের মূল লক্ষ্য হলো আসন্ন নির্বাচনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আবেগকে নিজেদের পক্ষে রাখা এবং এই আবেগ যেন বিএনপির দিকে না যায়।
জামায়াত এনসিপিকে ৫০-৬০ আসনে ছাড় এবং নির্বাচনে সব রকম সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এনসিপি নিশ্চিত যে জামায়াতের সঙ্গে গেলে তাদের সংগঠন ও জনবল বিনা খরচে শতভাগ কাজ করবে এবং কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী হবে না।
এনসিপি নেতারা আশঙ্কা করছেন, জামায়াতের সঙ্গে গেলে তাদের কপালে ডানপন্থি তকমা জুটবে যা দলের একাংশের (বাম ঘরানা থেকে আসা) ঘোর বিরোধী। দলের বৃহত্তর অংশ মধ্যপন্থি রাজনীতি করতে চায়।
ডানপন্থি তকমা এড়াতে জামায়াতকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে, জামায়াতের আমির নন গণঅভ্যুত্থানের নেতা হিসেবে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম জোটের নেতৃত্ব দেবেন এবং জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী হবেন। জামায়াত নেতারা এই প্রস্তাবকে 'অবান্তর' বলে নাকচ করে দিয়েছেন।
এনসিপির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে আগামী সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকা জরুরি। সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি, কম আসনে ছাড় দিলেও জয়ের সম্ভাবনা বেশি, আর্থিক ও সাংগঠনিক সামর্থ্যে পিছিয়ে, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সমর্থন নিয়ে শঙ্কা। রাজনৈতিক স্বকীয়তা ধরে রাখার সুযোগ বেশি। ৫০-৬০ আসনে সহজে ছাড় পাওয়া যাবে, সংগঠন ও জনবল শতভাগ কাজ করবে, কোনো বিদ্রোহী হবে না, ডানপন্থি 'ট্যাগ' পেতে হবে যার কারনে স্বকীয়তা ধরে রাখা কঠিন হবে।
এনসিপি এখন এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ এবং কওমি মাদ্রাসা ঘরানার বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত আন্দোলন-কে নিয়ে নিজেদের জোট গড়ার চেষ্টা করছে। এতে সফল হলে তারা বিএনপির সঙ্গে আসন নিয়ে দরকষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারবে। এনসিপির এই জোটে হেফাজতের সমর্থন পাওয়ারও একটি লক্ষ্য রয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াত মনে করে, এনসিপির সারাদেশে মাত্র ৩-৪ শতাংশ ভোট থাকলেও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে তারা তা পাবে না। তার পরও অভ্যুত্থানের আবেগের কারণে জামায়াত এনসিপিকে কাছে চাইছে।