ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
লাকসাম স্টেডিয়াম সংস্কারের দাবীতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বরাবর এড. সুজনের স্মারকলিপি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে আলমপুর সর: প্রা: বি: মাঠে কাবাডি খেলা অনুষ্ঠিত পোরশায় শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০২৬ উদযাপিত কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত লাকসামে দৌলতগঞ্জ মহিলা এতিমখানার কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা পীরগঞ্জে পৌর ভবনের বারান্দার ছাদ ধসে দুই শ্রমিক নিহত, আহত ৪ বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ শ্রীমঙ্গলের উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ ডিএমপির সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ সভায় শ্রেষ্ঠ হলেন যারা বেনাপোলে আবু তাহের ভারতকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে পৌর বিএনপির সংবাদ সম্মেলন পীরগঞ্জে পরিত্যক্ত কলাগাছের কান্ড দিয়ে তৈরি হচ্ছে মূল্যবান ফাইবার

পীরগঞ্জ হাসপাতালে বিদ্যুৎ সংকটে রোগীদের একমাত্র ভরসা হাত পাখা

#

শিহাবুর রহমান (পীরগঞ্জ)

৩১ আগস্ট, ২০২৬,  4:25 PM

news image

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং বিদুৎ  বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসাধীন রোগীরা। তীব্র গরমে ওয়ার্ডের ফ্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের কষ্ট বেড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক রোগীর স্বজনকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা গেছে।

হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ফ্যানসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ হয়ে যায়। গরম ও বাতাসের সংকটে অসুস্থ রোগীদের অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েন। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে।

রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য স্বাভাবিক ও সহনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ফ্যানসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগীদের কষ্ট বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

এক রোগীর স্বজন বলেন, “তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীরা ছটফট করছেন। ফ্যান বন্ধ থাকায় আমরা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করে কোনোভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।

এদিকে চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কতটা ব্যাহত হচ্ছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UH&FPO) ডা. মাসুদ রানা বলেন, “পীরগঞ্জে চলমান লোডশেডিংয়ের কারণে চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।”

তিনি জানান, হাসপাতালে জেনারেটর রয়েছে। তবে সরকারিভাবে জেনারেটর পরিচালনার জন্য তেলের বরাদ্দ না থাকায় এবং সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান না থাকায় সেটি নিয়মিত চালু রাখা সম্ভব হয় না।

ডা. মাসুদ রানা আরও বলেন, লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, শহর বা বন্দর এলাকা এবং গ্রামীণ এলাকার লোডশেডিংয়ের সময়সূচি সমন্বয় করে হাসপাতালকে তুলনামূলকভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের আওতায় রাখা গেলে চিকিৎসাধীন রোগীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, হাসপাতাল একটি জরুরি সেবাপ্রতিষ্ঠান। এখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ কেবল রোগীদের স্বস্তির বিষয় নয়, চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক কার্যক্রমের সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালসহ জরুরি সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

তারা বলেন, সরকারের ‘নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ’-সংক্রান্ত নীতিগত অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি বরাদ্দ, দক্ষ টেকনিশিয়ান নিয়োগ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি।

রোগী ও স্বজনরা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি জেনারেটরের জন্য নিয়মিত তেল বরাদ্দ ও দক্ষ টেকনিশিয়ান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে লোডশেডিং হলেও যাতে চিকিৎসাধীন রোগীদের এমন দুর্ভোগে পড়তে না হয়, সে জন্য হাসপাতালকে অগ্রাধিকারভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

logo

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: ইমাম হোসেন