কুলেন্দু শেখর দাস (সুনামগঞ্জ)
১৫ অক্টোবর, ২০২৬, 6:43 AM
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে আলমপুর সর: প্রা: বি: মাঠে কাবাডি খেলা অনুষ্ঠিত
গ্রামবাংলার প্রাচীনতম ঐতিহ্য বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি(হা ডু ডু) খেলার ঐতিহ্য গ্রামের মধ্যে সম্প্রীতি আর ভালবাসার মেলবন্ধন মেলাতে গত ২৫ বছর ধরে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের বগুলারকাড়া গ্রামবাসি ও যুবসমাজের যৌথ আয়োজনে আলমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে দাওয়াতী উৎসব কাবাডি (হাডুডু) খেলা ।
বুধবার (১৪ই অক্টোবর ২০২৬ইং তারিখে) সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী উপজেলার আলমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল মাঠে শান্তিগঞ্জ বনাম ছাতক উপজেলার মোট ৩৫টি কাবাডি দল এ উৎসবে অংশগ্রহন করে। দেশের জাতীর খেলাকে টিকিয়ে রাখতে ও যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে খেলায় আগ্রহী করে তুলার পাশাপাশি আশপাশের গ্রামের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বাড়াতে প্রতিবছর এমন দাওয়াতী উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে।
খেলায় কাবাডিপ্রেমী হাজারো লোকজন জড়ো হন খেলা উপভোগ করতে। হাওরের এই জেলায় বছরের ছয়মাস কৃষিকাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলে এখন বর্ষার মৌসুমে অনেকটাই বেকারহীন মানুষজন কাবাডি খেলার আনন্দ উপভোগ করতেই ব্যস্ত। এই খেলার মূল উদ্দেশ্যে হলো যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেরাধূলায় মনোনিবেশ করানো।
শান্তিগঞ্জের বগুলারকাড়া যুব সমাজের সভাপতি ছুরত আলীর সভাপতিত্বে খেলায় উপস্থিত ছিলেন জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত সুজন। এছাড়া ও উপস্থিত ছিলেন গ্রামের আয়োজক কমিটির সদস্য(রেফারী) ওবায়দুর রহমান কুবাদ, কমিটির সদস্য এডভোকেট বুরহান উদ্দিন দোলন, রোকনুজ্জামান রুকন, জসিম উদ্দিন, রুবেল, উকিল আলী, নুরুল আমিন, জালাল, উজ্জল, গিয়াস উদ্দিন, ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার বাদেশ্বরী গ্রামের আল মামুন শাহিন,আব্দুস সালাম এমরান ও মংলা মিয়া প্রমুখ। খেলা শেষে বিজয়ী দলের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দরা।
বগুলারকাড়া গ্রামের আয়োজক কমিটির সদস্য ও রেফারী ওবায়দুর রহমান কুবাদ জানান, এই খেলার ঐহিত্য ধরে রাখতে প্রতিবছর তাদের গ্রামে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। তাদের বংশ পরম্পরায় পূর্বপুরুষদের রীতি ধরে রাখতেই মূলত গত ২৫ বছর ধরে এ খেলার আয়োজন করা হচ্ছে।
আয়োজক কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট বুরহান উদ্দিন দোলন বলেন, গ্রামবাংলার প্রাচীনতম ঐহিত্যা কাবাডি (হাডুডু) খেলা আমাদের দেশের জাতীয় খেলা হলেও এই খেলাটি এখন অনেকটাই কালের আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে, এমন আয়োজন সচরাচর দেখা যায়না। তবে গত ২৫ বছর ধরে আমাদের বগুলারকাড়া গ্রামাবাসীর আয়োজনে বিলুপ্তির পথে এই জাতীয় কাবাডি খেলা হা ডু ডু”র ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছরের মতো এবারও মূলত খেলার আয়োজন করা হয়েছে। যাতে করে যুবকরা মাদকাসক্তের ঝুকিঁতে না পড়ে।
জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত সুজন বলেন, বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের যুবকদের মাদকমুক্ত রাখতে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধূলায় মনোনিবেশ করতে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে গ্রামবাংলার প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহি হা ডু ডু খেলাটি বগুলারকাড়া গ্রামবাসি তাদের পূর্বপূরুষদের ঐহিত্য ধরে রাখতেই মূলত এই দাওয়াতি কাবাডি খেলার আয়োজন করে থাকেন। তিনি সরকারের নিকট দাবি জানান, সরকার যদি কাবাডি খেলায় সংগঠনগুলোকে অনুদান প্রদান করেন তাহলে এই ঐতিহ্যবাহী খেলার বিস্তার সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।
কাবাডি খেলার ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি হাওর এলকার গ্রামের মানুষের মধ্যে ভালবাসার মেলবন্ধন ধরে রাখতে এমন আয়োজন করা হয়েছে বলে জানালেন আয়োজকরা। তবে সরকারের পৃষ্টপোষকতা পেলে এই জনপ্রিয় খেলাটি তৃণমূলের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। দিনব্যাপী শান্তিগঞ্জের ও ছাতক উপজেলার এই দাওয়াতী কাবাডি (হা ডু ডু) প্রতিযোগীতায় ৩৫টি দল অংশগ্রহন করে।