নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, 4:35 PM
হাজীগঞ্জে চুরির প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ীর উপর সশস্ত্র হামলা
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় সংঘবদ্ধ চোরচক্র ও তাদের গডফাদারের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি চোরচক্রের গডফাদার হিসেবে পরিচিত মিজানুর রহমান পলাশের নেতৃত্বে এক ব্যবসায়ীর উপর পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৯) হাজীগঞ্জ থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, মিজানুর রহমান পলাশ মূলত এলাকায় সক্রিয় চোরদের গডফাদার হিসেবে কাজ করে আসছে। চোরচক্রের কোনো সদস্য বিপদে পড়লে বা আটক হলে পলাশ সালিশ-বিচার করে বিষয়টি মীমাংসা করে এবং নিয়মিত কমিশন গ্রহণ করে থাকে। এমনকি থানায় পুলিশ চোর আটক করলে সেখান থেকেও তাদের ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন পারটেক্স–আকিজ বোর্ডের একজন ডিলার এবং হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের এনায়েতপুর এলাকায় তার একটি ফ্যাক্টরি ও গোডাউন রয়েছে। স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে গত ১০–১২ দিন ব্যবসায়িক কাজে অনুপস্থিত থাকার সুযোগে অভিযুক্ত মোঃ সুজন (২৮), মোঃ পারভেজ হোসেন (২৫)সহ কয়েকজন তার গোডাউন থেকে বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। পরে এ বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলে মিজানুর রহমান পলাশ তাকে হুমকি দিতে থাকে।
১৬ জানুয়ারি তারিখ সকালে চাঁদপুরে অবস্থানকালে তিনি জানতে পারেন যে, মিজানুর রহমান পলাশের নির্দেশে সুজন ও পারভেজ পুনরায় তার গোডাউনে ঢুকে মালামাল লুট করছে। তাৎক্ষণিকভাবে তার ছোট ভাই মোঃ আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে পারভেজকে আটক করলে পলাশ ও সুজন তাকে মারধর করে জোরপূর্বক উদ্ধার করার চেষ্টা চালায়।
পরবর্তীতে একই দিন বিকাল আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে এনায়েতপুর এলাকায় মফিজ উদ্দিনের চা দোকানের সামনে রাস্তার ওপর চুরির বিষয়ে কথা বলার সময় মিজানুর রহমান পলাশের নেতৃত্বে মোঃ সুজন, মোঃ পারভেজ হোসেন, মোঃ শাহেদ, মোঃ ফরহাদ হোসেন, মোঃ শিহাব উদ্দিন, মোঃ এরশাদ ও মোঃ শামসুল হকসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭–৮ জন দেশীয় অস্ত্র, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা ব্যবসায়ী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনকে রাস্তায় ফেলে নির্মমভাবে মারধর করে গুরুতর জখম করে এবং তার কাছ থেকে নগদ ১২ হাজার ১২০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে মিজানুর রহমান পলাশ নিজ বাড়ি থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল এনে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ মারার চেষ্টা করে। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান তিনি এবং দৌড়ে একটি চা দোকানে ঢুকে আশ্রয় নেন।
এ সময় তার দুই ভাই মোঃ আলমগীর হোসেন ও মোঃ জাকির হোসেনকেও লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করে আহত করা হয়। স্থানীয়দের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় হাজীগঞ্জ থানায় মিজানুর রহমান পলাশকে প্রধান আসামি করে মোট ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আহতরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মিজানুর রহমান পলাশের নেতৃত্বে একটি চোরচক্র সক্রিয় থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।