সিরাজুল ইসলাম (ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি)
১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, 10:45 PM
হরিপুরে বর্ণিল আয়োজনে বিজয় দিবস উদযাপিত
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে স্থানীয় সময় সকাল ৬:৪৬ মিনিটে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের সূচনা হয়।
পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোআ মাহফিল, বিজয় র্যালি,ও সকাল ৯:৩০ মিনিটে হরিপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে পবিত্র কোরআন, গীতা পাঠ, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই মহান বিজয় দিবসের শুভ সূচনা উদ্বোধন করেন হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হানুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হরিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মো.আব্দুল হাকিম আজাদ, অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ, সহকারী কমিশনার (ভুমি) উজ্জ্বল বাইন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা.মো. সোহাগ রানা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম, হরিপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি জামাল উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রমিজ উদ্দিন আহমেদ,গণধিকার পরিষদের সভাপতি মোজাক্কের ইসলাম সুমন, উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম মুফতি মাওলানা মঈনুদ্দীন আল মাদানী, ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র লিডার মো.জয়নুল, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর, আমাদের দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল এবং এর মাধ্যমেই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে মহত্তম ও অবিস্মরণীয় একটি দিন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর এই দিনেই অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয় এবং বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (যা বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী বাংলাদেশ ও ভারতের সামরিক জোট 'যৌথ কমান্ড' (মিত্রবাহিনী) এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।
মিত্রবাহিনীর পক্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা আত্মসমর্পণের দলিলটি গ্রহণ করেন। এই দলিলে স্বাক্ষরের মাধ্যমেই সমাপ্তি ঘটে সুদীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের।
এই আত্মসমর্পণের ফলস্বরূপ, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।বি বিজয় ও স্বাধীনতার এটি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির গৌরবময় বিজয় এবং স্বাধীনতা অর্জনের দিন।
প্রতি বছর এই দিনটিকে বাংলাদেশে 'মহান বিজয় দিবস' হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়। এই দিনটি সরকারি ছুটির দিন।
এই দিন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হানুল ইসলাম । এই বিজয় অর্জিত হয়েছিল অসংখ্য মানুষের চরম ত্যাগ, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে।