ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
লাকসাম স্টেডিয়াম সংস্কারের দাবীতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বরাবর এড. সুজনের স্মারকলিপি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে আলমপুর সর: প্রা: বি: মাঠে কাবাডি খেলা অনুষ্ঠিত পোরশায় শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০২৬ উদযাপিত কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত লাকসামে দৌলতগঞ্জ মহিলা এতিমখানার কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা পীরগঞ্জে পৌর ভবনের বারান্দার ছাদ ধসে দুই শ্রমিক নিহত, আহত ৪ বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ শ্রীমঙ্গলের উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ ডিএমপির সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ সভায় শ্রেষ্ঠ হলেন যারা বেনাপোলে আবু তাহের ভারতকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে পৌর বিএনপির সংবাদ সম্মেলন পীরগঞ্জে পরিত্যক্ত কলাগাছের কান্ড দিয়ে তৈরি হচ্ছে মূল্যবান ফাইবার

সময়ের সাথে বিলুপ্তির পথে গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের দৃশ্য

#

তিমির বনিক (মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি)

০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫,  2:07 AM

news image

সময়ের পালাবদলে সময় যেন নিঃশব্দে বদলে যায়। একসময় মৌলভীবাজারের জুড়ীর গ্রামগুলোতে হেমন্ত মানেই ছিল ধান কাটার আনন্দ, আর সন্ধ্যার আলো নিভু নিভু হলে উঠোনে গরুর হালে ধান মাড়াইয়ের সেই ব্যস্ততা। শিশুদের হাসি, বড়দের ডাকাডাকি, আর হালের গরুর ছন্দ সব মিলিয়ে যেন এক গ্রামীণ জনপদে জীবনের সুর বাজতো।

আজ সেই সুর আর শোনা যায় না। গরুর খুরের শব্দ হারিয়ে গেছে, জায়গা নিয়েছে ডিজিটাল যুগের ধাতব মেশিনের ঘূর্ণন। গ্রামের মানুষ জানে-সময় এগিয়েছে, প্রযুক্তি এসেছে। তবুও মনে কোথাও যেন একটু খচখচে শূন্যতা রয়ে বেড়ায় এক অপূর্ণতা।

উপজেলার দক্ষিণ বড়ডহর গ্রামের কৃষক বশির মিয়া বলেন, “একসময় রাতভর ধান মাড়াই চলত। গরুর পায়ের শব্দে পুরো গ্রাম জেগে উঠত। সবাই মিলে কাজ করতাম। এখন সেই দিন আর নেই। যন্ত্র আছে, কাজও হয়-কিন্তু সেই মিলন, সেই আনন্দটা হারিয়ে গেছে পালাবদলে।"

বেলাগাঁও গ্রামের কৃষক ফারুক মিয়া বলেন, “আমরা জানি যন্ত্রই এখন ভরসা। জমি প্রস্তুত করতে, ধান কাটতে, মাড়াই করতে সবকিছুতেই গতি এসেছে। কিন্তু গরু দিয়ে ধান মাড়াই ছিল আমাদের জীবনের অংশ। মনে হয়, যেন একটা ইতিহাস চোঁখের সামনে হঠাৎ করেই হারিয়ে যাচ্ছে।

জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন কৃষিকে এগিয়ে নিয়েছে-এটাই সময়ের দাবি। আগে যে কাজ করতে অনেক সময়, শ্রম ও ঝুঁকি ছিল, এখন তা সহজ হয়েছে। তবু এসব ঐতিহ্যকে নথিভুক্ত করে আগামী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা জরুরি-কারণ এগুলোই আমাদের কৃষিজীবনের গ্ৰামীন শেকড়ের গল্প- এমনটাই মনে করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। 

সময় এগোচ্ছে আর সাথে সাথে কৃষির কাঠামো বদলে যাচ্ছে। কিন্তু গ্রামীণ জীবনের কিছু দৃশ্য থাকে এমন যেগুলো অদৃশ্য হয়ে গেলেও মানুষের মনে বয়ে বেড়ায় সারাজীবন।

জুড়ীর মানুষ তাই বলছেন, আধুনিকতার সুফল তারা যেমন গ্রহণ করছেন তেমনি গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের মতো শত শত বছরের ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ায় একটুখানি বেদনাও থেকে যাচ্ছে। কারণ এই ঐতিহ্য শুধু কাজের পদ্ধতি ছিল না—এ ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের সম্পর্ক, হাঁসি ,উৎসব আর একসাথে বেঁচে থাকার দৈনন্দিন গল্প।

logo

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: ইমাম হোসেন