ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
উপজেলা শিক্ষক বদলি কমিটির সদস্য মনোনীত হলেন মোঃ মশিউর রহমান শ্রীপুরে ওসি শাহিনুর আলমের নেতৃত্বে বিপুল পরিমান ইয়াবা উদ্ধার সুনামগঞ্জে ‘আনলকিং ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনস ফর ইয়ুথ এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত গোপালপুরে মরহুম খন্দকার আব্দুল মান্নানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া ও আলোচনা সভা ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের মতবিনিময় সভায় ব্যারিস্টার জারহাত আদিব চৌধুরী ভোলায় জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত করিমগঞ্জে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ভোলায় জেলা পুলিশের জুলাই মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত করিমগঞ্জে শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক সমিতির কমিটি গঠন পোরশায় উৎসব মুখর পরিবেশে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন

শীতল পাটির ঐতিহ্য হারিয়ে পেশা বদলাচ্ছে কারিগররা

#

তিমির বনিক (মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি)

০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫,  5:25 PM

news image

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ধুলিজোড়া গ্রামের কারুশিল্পীদের হাতের তৈরি শীতল পাটির এক সময় বেশ কদর ছিল। স্বল্পমূল্যের প্লাস্টিকের মাদুরের দাপটে অতীত জৌলুসে হারিয়েছে শীতল পাটির ঐতিহ্য। এতে আয় কমে যাওয়ায় ধুলিজোড়া গ্রামের শতাধিক কারুশিল্পী জীবিকা নির্বাহে পেশা বদল করতে বাধ্য হয়েছেন।

রাজনগর-বালাগঞ্জ খেয়াঘাট সড়কের পাশের একটি নিভৃত গ্রামের নাম ধুলিজোড়া। যে গ্রামের মানুষ বিভিন্ন ধরনের শীতল পাটি তৈরিতে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন।

বুধবার ধুলিজোড়া গ্রামের অরুণ চন্দ্র দাসের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে কারুকার্য খচিত শীতল পাটি বানিয়ে রৌদ্রে শুকাতে দিচ্ছেন, দুখানা পাটির একখানা ভাঁজ করে বারান্দায় রেখেছেন। আরও দুটি মাদুর বানিয়ে রেখেছেন।

তিনি জানান, ৪-৫ হাত বিশিষ্ট কারুকাজ করা একটা শীতল পাটি বানাতে ৩০-৩৫ দিন সময় লাগে। এর সঙ্গে হাজার থেকে বারশো টাকার বেত ও রং লাগে। পালঙ্কের জন্য একটি ‘নঙা’ করা পাটি ২৮-৩০ হাজার টাকা দাম পড়ে। এসব শীতল পাটি শৌখিন ধনাঢ্য ব্যক্তিরা ব্যবহার করেন। এ ছাড়া একটি সাধারণ মানের পাটি ৫-৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। তিনি জানান, আগেরকার দিনে বিয়ে-শাদিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং গরমের দিন এলেই শীতল পাটি কেনা হতো। এখন এ স্থান দখল করেছে চায়না প্রযুক্তির প্লাস্টিকের মাদুর।

অরুণ চন্দ্র দাস আরও জানান, সরকারি সহযোগিতায় শীতল পাটির কারিগর হিসেবে তিনি ২০১৩ সালে বাংলাদেশের হয়ে জাপানে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প মেলায় এবং ২০২৩ সালে চীন গিয়েছিলেন। সেখানে ধুলিজোড়ায় বানানো শীতল পাটি প্রদর্শন ও বিক্রি হয়েছে। ‘নঙা’ আঁকা শীতল পাটি চীন ও জাপানে বেশ সমাদৃত হয়েছে। এসব প্রদর্শনীতে তাঁর সঙ্গে গ্রামের হরেন্দ্র দাস ও গীতেশ দাস অংশ নিয়েছিলেন।

গ্রামের প্রমেশ দাস, দ্বিজেন্দ্র দাস, শৈতেন্দ্র দাস, গোপাল দাস, সুশীল দাস, গোবিন্দ দাসসহ আরও কয়েক জন শীতল পাটির কারিগর জানান, প্লাস্টিকের কম দামি মাদুরের কারণে শীতল পাটি আগের মতো বিক্রি হয় না। এতে তাদের আয় রোজগার কমে যাওয়ায় অনেকে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। অন্য পেশা বেছে নিতে বাধ্য বর্তমান এ ডিজিটাল যুগের বাতাসে হারিয়ে গেছে ঐতিহ্য।

logo

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: ইমাম হোসেন