ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
হরিপুরে বিদ্যুৎ স্পষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যু নেতৃত্বের গল্প শোনাতে তানজানিয়া যাচ্ছেন শ্যামনগরের অপর্ণা মল্লিক কালীগঞ্জে সৌদী বাদশাহ’র খেজুর পেল ৩০ মাদ্রাসা ও এতিমখানা ভোলা জেলা পুলিশের আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত পোরশা থানায় ইফতার মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত লাকসাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোজ খাদ্যে ব্যবহারে জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান সিলগালা জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব প্রসঙ্গে গণতন্ত্রী পার্টির বিবৃতি এক ফসলা বৃষ্টিতে প্রান ফিরেছে চা বাগানে আশুলিয়ায় সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

লাখ টাকার বিনিময়ে ছাত্রলীগ নেতাদের পাসপোর্ট তৈরি করে দেন উপ-পরিচালক মাকসুদুর রহমান

#

নিশাত শাহরিয়ার

০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫,  2:23 AM

news image

দেশের শীর্ষ দূর্নীতির খাতগুলোর একটি পাসপোর্ট অধিদপ্তর। এর সত্যতা আবারো প্রমাণ করেছেন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ঢাকা পশ্চিম (মোহাম্মাদপুর) উপ-পরিচালক মাকসুদুর রহমান। 

মাত্র ৬৫ হাজার টাকা বেতন পেয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল সাম্রাজ্য। ঢাকায় ফ্ল্যাট, গুলশান ও লালবাগে রয়েছে নামে-বেনামে বেশ কয়েকটি প্লট। স্ত্রীর নামে করেছেন ৩০ ভরির বেশি গহনা। সবই সম্ভব হয়েছে তার পরিচালিত দালাল চক্রের মাধ্যমে।

সম্প্রতি দেশের একটি উল্লেখযোগ্য গণমাধ্যমে উঠে এসেছে এমন ভয়ানক তথ্য।‌ সেই গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা যায়, টাকার বিনিময়ে সবধরণের সেবাই মিলে মোহাম্মাদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে। টাকা না দিলে হতে হয় চরম হয়রানির শিকার। 

জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগসহ  ছাত্রলীগ নেতাদের পাসপোর্ট তৈরি ও নবায়ন করে দেন‌ উপ-পরিচালক মাকসুদুর রহমান। বিনিময়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।

পাসপোর্ট করতে সাধারণ জনগণকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হলেও কেউ কেউ সরাসরি আবেদন নিয়ে নির্বিঘ্নে কাজ শেষ করে বের হয়ে যান। আর যারা দালাল ধরেন না তাদেরকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হয়। 

রিঙ্কু, তারিক, সাব্বির, জুয়েল রানা, আশরাফুল, নিরব, হাসান, নাজমুলসহ বেশ কয়েকজন দালালের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন মোহাম্মদপুর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাকসুদুর রহমান। এসব দালালদের সাথে যোগাযোগ না করে কেউ সহজে নিয়মমাফিক পাসপোর্ট করতে পারছেন না অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ‌সরকারি ফি এর বাইরে পাসপোর্ট প্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেশি নিচ্ছে এই দালাল চক্র। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দালালের সাথে কথা হলে তারা জানান, পাসপোর্ট সংক্রান্ত যেকোনো কাজ তারা করে দিবে। যত ঝামেলাই থাকুক না কেন  তারা পাসপোর্ট করে দিবে। তবে এর জন্য মোটা অংকের টাকা গুনতে হবে। হত্যা মামলার আসামি হলেও কোনো সমস্যা নেই তার পাসপোর্ট করে দেওয়া যাবে। সমস্যার ধরন অনুযায়ী পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে টাকার অংক নির্ভর করে বলে জানান তারা। এসব দালালদের সহযোগিতা নিয়েই সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন উপপরিচালক মাকসুদুর রহমান। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এই উপ-পরিচালক থাকেন কোটি টাকা মূল্যের নিজস্ব ফ্ল্যাটে। ব্যবহার করেন ঢাকা মেট্রো চ- ২০৬২৩২ নাম্বারের নিজস্ব দামি গাড়ি। তার স্ত্রী নাসরিন আক্তারের নামে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্লট ও বাড়ি। স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি টাকার লেনদেনের তথ্যপ্রমাণও পাওয়া গেছে।

নাসরিন আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্রের নামে রয়েছে ৫টিরও বেশি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট। যার মধ্যে রয়েছে ঢাকা ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট। এসব হিসাবে লাখ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে জানা যায়।

জানা যায়, লালবাগ থানার দক্ষিণ সোনা টেংগর মৌজায় রয়েছে ৩.৩৩ ও ৭.৩৮ শতাংশের জমি। ক্যান্টনমেন্ট থানার লালসরাই ৭ মৌজায় ৩.৯৬ শতাংশ, জোয়ার সাহারায় ৪.১৪ ও ৫.৩৯ শতাংশ ও গুলশান থানার ডুমনি মৌজায়  রয়েছে ৪.৯৫, ৪.৯০ ও ৯.৯০ শতাংশ জমি।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শুধুমাত্র বেতনের টাকায়  একজন কর্মকর্তা কখনোই এত সম্পদ গড়ে তুলতে পারেন না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপ-পরিচালক মাকসুদুর রহমান বলেন, এসব কোনো সম্পদ তার এবং তার স্ত্রীর নয়। জমিগুলোর খাজনা তার স্ত্রীর নামে পরিশোধ করার তথ্য জানালে বলেন,  যা পারেন লিখেন। এ কথা বলেই ফোনের লাইন কেটে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন শিহাব উদ্দিন খান বলেন, এবিষয়গুলো নিয়ে তার মন্তব্য করার ক্ষমতা নেই। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে মহাপরিচালককে ফোন করার পরামর্শ দেন তিনি।