ফজলুল করিম রিয়াজ (রায়পুর)
২৬ মে, ২০২৬, 12:38 PM
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ধর্ষণের আসামিকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৪৫ বছর বয়সী অটোরিকশাচালক সাহিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগে রায়পুর পৌর ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিবকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
স্থানয়ীদের অভিযোগ, ধর্ষণের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা নেই। তার মা সংসারের প্রয়োজনে বাইরে কাজে যান। গত কয়েকদিন আগে কিশোরী মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে ফিরে একা থাকার সুযোগে ঘরে প্রবেশ করে অভিযুক্ত সাহিন। সে সময় ধারালো অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কিশোরীকে প্রথমবার ধর্ষণ করা হয় এবং মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং মা ও ভাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী কিশোরী সংবাদমাধ্যমকে বলে, "মা বাসায় না থাকায় আমাকে একা পেয়ে সাহিন জোর করে ঘরে ঢুকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। পরে আমার ভিডিও ধারণ করে হুমকি দেয়, কাউকে বললে ভিডিও ছড়িয়ে দেবে এবং আমার মা-ভাইকেও মেরে ফেলবে।"
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত সাহিনকে আটকে রেখেছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, পৌর ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিব মধ্যস্থতা করতে এসে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে সাহিনকে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রাব্বি ও প্রতিবেশী মিতু অভিযোগ করে বলেন, রাকিব নিজেই মোটরসাইকেল নিয়ে এসে অভিযুক্তকে পাশে ডেকে কথা বলেন। এরপর বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও মূল অপরাধীসহ সহায়তাকারীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, "আমার স্বামী নাই। সংসারের প্রয়োজনে আমাকে বাইরে কাজ করতে হয়। আমার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মেয়ের সর্বনাশ করা হয়েছে। আমি দোষীদের ফাঁসি চাই।"
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা রাকিব। গ্রেফতার হওয়ার আগে তিনি দাবি করেন, "আমি নিজেই অভিযুক্তকে ধরে পুলিশ ও সাংবাদিকদের খবর দিয়েছি। তাকে পালাতে কোনো সহযোগিতা করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।"
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া বলেন, "ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে পালাতে সহযোগিতা করার অভিযোগে রাকিবকে আটক করা হয়েছে। তাকে ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।"
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক সাহিনকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে এই নির্মম ঘটনার পর থেকে রায়পুর পৌর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত মূল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।