ফয়সাল আহমেদ অনন্ত
১৭ জুন, ২০২৬, 3:10 PM
মেসির হ্যাটট্রিকে ইতিহাসে নতুন অধ্যায়
কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে ফুটবল ভোরটা ছিল পুরোপুরি একতরফা উজ্জ্বলতায় ভরা। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল দাপুটে জয়ে, আর সেই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে আবারও দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি।
মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩–০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে স্কোরলাইন ছাড়িয়ে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে মেসির ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক যা এসেছে ১৭, ৬০ ও ৭৬ মিনিটে।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি ছিল মেসির ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। অভিজ্ঞতা আর দক্ষতার মিশেলে এই রাতটিকে তিনি রূপ দিলেন নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়ে। বয়স ৩৮ পেরিয়ে গেলেও তার পারফরম্যান্স যেন সময়কে অস্বীকার করেছে।
এই ম্যাচের হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল দাঁড়িয়েছে ১৬-এ। ফলে তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসে-এর সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। এখন এক গোল দূরত্বেই ইতিহাসের একক মালিকানা। একই সঙ্গে এটি ছিল তার প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক, যা দীর্ঘ ক্যারিয়ারের একটি অপূর্ণ অধ্যায়ও পূরণ করল।
মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই আরেকটি রেকর্ড যোগ হয় মেসির নামের পাশে—ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রথম ফুটবলার তিনি। এই তালিকায় পরবর্তীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে আরও কিছু তারকার, তবে সূচনা তার হাত ধরেই।
৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে তিন গোল করার রেকর্ডও এখন তার দখলে। অভিজ্ঞতার সঙ্গে ফিটনেস আর গোল করার ক্ষুধা মিলিয়ে তিনি যেন ব্যতিক্রমী এক অধ্যায় লিখছেন।
ম্যাচে একটি গোল এসেছে বক্সের বাইরে থেকে, যা তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে এই ধরনের গোলের সংখ্যা আরও বাড়িয়েছে। ফুটবলের পরিভাষায় যাকে অনেকেই বলেন ‘অসম্ভবকে সম্ভব করা শট’।
২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, পাঁচ বিশ্বকাপে গোল, আর এখন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছোঁয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মেসি আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত নাম হিসেবে ধরা হয়।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা শিবিরে উচ্ছ্বাস থাকলেও আলোচনার কেন্দ্র একটাই—একজন মানুষ কতদূর নিয়ে যেতে পারেন ফুটবলের সম্ভাবনাকে মেসি তার নতুন উদাহরণ। বিশ্বকাপের এই অধ্যায় এখনো শুরু মাত্র, কিন্তু প্রথম দিনেই যে গল্প লেখা হয়ে গেল তা ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে।