ফয়সাল আহমেদ অনন্ত
১৫ জুন, ২০২৬, 11:12 PM
কুরাসাওয়ের জালে ৭ গোল, ফিরে এলো ‘মিনেইরাওয়ের ভূত’
কুরাসাওয়ের জালে সপ্তম বলটি জড়াতেই যেন বিশ্বকাপের আকাশে ভেসে উঠল এক পুরোনো স্মৃতির ছায়া। মুহূর্তের জন্য সময় থমকে দাঁড়াল, আর ফুটবলপ্রেমীদের চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠল ব্রাজিলের বেলো হরিজন্তের সেই বিষণ্ন রাত। ‘সাত-এক’... ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর, সবচেয়ে বেদনাদায়ক এবং সবচেয়ে আলোচিত স্কোরলাইনগুলোর একটি।
জার্মানি যেন শুধু একটি গোল করেনি, খুলে দিয়েছিল স্মৃতির এক পুরোনো দরজা। সেই দরজার ওপারে এখনো কান্না শোনা যায় ব্রাজিলের, আর গৌরবের সুর বাজে জার্মানির। কুরাসাওয়ের জালে সপ্তম গোলটি জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যেন মিনেইরাও স্টেডিয়ামের নিস্তব্ধতা আবার ফিরে এলো। মনে হলো, ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে ‘সাত-এক’-এর সেই কিংবদন্তি অধ্যায় আবারও নিজেকে প্রকাশ করল নতুন এক রূপে।
২০১৪ সালের সেই রাতে ব্রাজিল কেঁদেছিল নিজেদের মাটিতে, আর বারো বছর পর কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জার্মানির গোল উৎসব যেন সেই স্মৃতিরই আরেক প্রতিধ্বনি হয়ে বাজল বিশ্বকাপের মঞ্চে। স্কোরবোর্ডের সংখ্যা দুটো ছিল একই, কিন্তু অনুভূতির গভীরতা ছিল আরও বিস্তৃত। কারণ ‘সাত-এক’ শুধু একটি ফলাফল নয়, এটি জার্মান ফুটবলের নির্মম দক্ষতার এক প্রতীক, এক ভয়ংকর স্মারক।
ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে কুরাসাওয়ের জালে যখন সপ্তমবারের মতো বল আশ্রয় নিল, তখন মনে হলো জার্মানির পা থেকে নয়, ইতিহাসের বুক থেকেই বেরিয়ে এলো সেই গোল। হঠাৎ করেই বিশ্বকাপের বাতাসে মিশে গেল এক পুরোনো রাতের গন্ধ। ফিরে এলো ব্রাজিলের অশ্রুসিক্ত মুখ, স্তব্ধ গ্যালারি আর মিনেইরাওয়ের নিঃশব্দ কান্না। ‘সাত-এক’ সংখ্যাটি আবারও জ্বলে উঠল স্কোরবোর্ডে, যেন সময় নিজেই পুরোনো এক অধ্যায়ের পাতা উল্টে ফুটবল বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিল, জার্মানি যখন ছন্দে থাকে, তখন প্রতিপক্ষের জন্য অপেক্ষা করে শুধু দীর্ঘ এক দুঃস্বপ্ন।
কুরাসাওয়ের বিপক্ষে এটি ছিল একটি জয়, কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি ছিল স্মৃতির পুনর্জন্ম। সপ্তম গোলের সঙ্গে সঙ্গে যেন অতীত আর বর্তমান হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে গেল একই মঞ্চে, আর ইতিহাস নীরবে ফিসফিস করে বলল— ‘আমাকে কি এখনও মনে আছে?’