বিপ্লব চৌধুরী (বিশেষ প্রতিনিধি)
২৩ অক্টোবর, ২০২৫, 10:59 PM
মানবতার বিপর্যয়
শিক্ষালয়—মানবিক মূল্যবোধ শেখানোর পবিত্র স্থান। আর শিক্ষক—জ্ঞান, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার বাহক। সমাজ তাদের সম্মান দেয় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার গুরুদায়িত্ব পালনের কারণে। কিন্তু যখন সেই বিশ্বাসের আসনেই লুকিয়ে পড়ে কোনো নরপিশাচ—তখন শুধু একটি শিশুর নয়, মানবতারই পরাজয় ঘটে।
সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় দেখা গেছে, শ্রেণিকক্ষেই কোমলমতি এক শিক্ষার্থী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যেখানে শিশুরা নিরাপদে স্বপ্ন দেখতে শেখে, সেই স্থানেই যদি তাদের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হয়—তবে সমাজ কতটা অধঃপতিত হয়েছে তা সহজেই অনুমেয়।
শিশুর মনে, দেহে আঘাতের ক্ষত সারতে সময় লাগে কিন্তু মনোজগতের ক্ষত সারতে পারে না সহজে। এ ধরনের অভিজ্ঞতা শিশুর আত্মবিশ্বাস, শিক্ষা-জীবন, মানসিক বিকাশ—সবকিছু ধ্বংস করে দেয়। প্রশ্ন আসে—এ দায় কার? পরিবারের? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের? নাকি সমাজের প্রত্যেকের?
আইনের আওতায় এমন অপরাধের কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—ধামাচাপার সংস্কৃতি, প্রশাসনিক জটিলতা ও সামাজিক ভয়ের কারণে অধিকাংশ ঘটনাই ন্যায়বিচারের আলো দেখে না। তাই অপরাধীরা বারবার সুযোগ পায়। সমাজ নীরব থাকে—আর নীরবতা নতুন অপরাধ সৃষ্টি করে।
বিদ্যালয়গুলোতে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা প্রয়োগ, শিক্ষকদের মনস্তাত্ত্বিক যাচাই, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং অভিযোগ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। মাতাপিতাকেও সচেতন হতে হবে—শিশুর আচরণ, মানসিক পরিবর্তন ও শারীরিক ভাষা লক্ষ্য রাখতে।
শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতা কোনো চাপা পড়ে থাকা বিষয় নয়—এটি সমাজের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার মতো। কারণ একটি শিশু লাঞ্ছিত হলে সেখানে মানবতার পতাকা অর্ধনমিত হয়ে যায়।