রুয়েল কামাল (বড়লেখা)
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, 5:23 PM
বড়লেখায় আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে চা বাগানে শ্রমিক বিক্ষোভ
বড়লেখায় অডিট টিমের সদস্যদের আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে এবং ৩ সপ্তাহ ধরে তলব (সাপ্তাহিক বেতন) বন্ধের প্রতিবাদে বাগান ম্যানেজার ও অডিট টিমের সদস্যদের বাগান কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্দ চা শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বাংলাদেশ চা বোর্ড নিয়ন্ত্রিত নিউ সমনবাগ বাগানে এই ঘটনা ঘটে। এসময় চরম উত্তেজনার সৃষ্ঠি হলে ইউএনও ও থানার ওসির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করা হয়।
জানা গেছে, বর্তমান মৌসুমে চা বাগনে চা পাতা চয়ন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এসময়টায় চা শ্রমিকরা গড় বেতন পেয়ে থাকেন। কিন্তু এবার আনুমানিক ৩ সাপ্তাহ ধরে সাপ্তাহিক ৫০০-১০০০ টাকার স্থলে প্রত্যেক শ্রমিককে ১০০-২০০ টাকা করে দেওয়া হয়।
এছাড়া ৩ সাপ্তাহ ধরে তাদের চলমান বেতন ও বকেয়া এরিয়ার বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি গত ৫ জানুয়ারি চা শ্রমিকদের ডাটাবেজের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে ৬ সদস্যের একটি অডিট টিম নারী চা শ্রমিকদের তথ্য সংগ্রহকালে আপত্তিকর নানা মন্তব্য করে। যা শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে।
ফলে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে প্রায় দেড় হাজার চা শ্রমিকেরা বাগানের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে কর্মকর্তা কর্মচারী ও অডিট টিমের সদস্যদের অবরোধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার গালিব চৌধুরী ও বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান খান ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের কাছে সাথে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তখন প্রশাসনের উপস্থিতিতে নারী চা শ্রমিকদের আপত্তিকর মন্তব্য করা অডিট টিমের প্রধান ও টি বোর্ডের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করেন।
চা শ্রমিক জুড়ী ভ্যালির সভাপতি শ্রমতি বাউরী, শ্রমিক নেতা স্বরস্বতী সাওতাল, জানকি গড়াইত, হেমন্তি রবি দাস, স্বরস্বতী খানু প্রমুখ নিয়মিত চা শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, আমরা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছি। সামনে সংক্রান্তি উৎসব। চলমান সপ্তাহসহ ৩ সাপ্তাহ ধরে নিয়মিত বেতন ও এরিয়ার দেওয়া হচ্ছে না। তাছাড়া আমাদের ঘর-বাড়িগুলো জরাজীর্ণ। সংস্কার হচ্ছে না। যা ব্যবহার অনুপযোগী। বন্ধকালীন আমাদের গড় হিসেবে মজুরী দেওয়ার নিয়ম রয়েছে, অন্যান্য বছর দিলেও এবার আমাদের মারতœকভাবে ন্যায়্য পাওয়া থেকে বাগান কর্তৃপক্ষ বঞ্চিত করেছে। এর মধ্যে অডিট করতে এসে আমাদের নারী শ্রমিকদের সাথে আপত্তিকর ও অশোভন আচরণ করা হয়। এতে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে উঠে।
মঙ্গলবার সকালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা চা বাগান কার্যালয়ের সম্মুখে জড়ো হয়ে বাগান ম্যানেজার ও অডিট টিমের সদস্যদের অবরুদ্ধে করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জের মধ্যস্ততায় অডিট টিমের প্রধান দুঃখ প্রকাশ করায় শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার গালিব চৌধুরী জানান, বাগান ব্যবস্থাপক ও শ্রমিকদের মধ্যে যথেষ্ট সমন্নয়ের অভাব ছিল। যার কারণে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। বিষয়টি উভয় পক্ষকে নিয়ে নিরসন করা হয়েছে।
অডিট টিমের প্রধান ও টি বোর্ডের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম জানান, চা শ্রমিকদের ডাটাবেজ তৈরির জন্য ৬ সদস্যের অডিট টিম নিউ সমনভাগ চা বাগানে শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে।
তথ্য সংগ্রহকালে ভাষাগত ভুলবোঝাবুঝির কারণে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়। তারা বিষয়টি বিষয়টিকে আপত্তিকর হিসেবে ধরে নেয়। তবে ইউএনও, থানার ওসি, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও শ্রমিক নেতাদের নিয়ে আলাপ আলোচনা করে বিষয়টি নিরসন করা হয়েছে।