ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
লাকসাম স্টেডিয়াম সংস্কারের দাবীতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বরাবর এড. সুজনের স্মারকলিপি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে আলমপুর সর: প্রা: বি: মাঠে কাবাডি খেলা অনুষ্ঠিত পোরশায় শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০২৬ উদযাপিত কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত লাকসামে দৌলতগঞ্জ মহিলা এতিমখানার কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা পীরগঞ্জে পৌর ভবনের বারান্দার ছাদ ধসে দুই শ্রমিক নিহত, আহত ৪ বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ শ্রীমঙ্গলের উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ ডিএমপির সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ সভায় শ্রেষ্ঠ হলেন যারা বেনাপোলে আবু তাহের ভারতকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে পৌর বিএনপির সংবাদ সম্মেলন পীরগঞ্জে পরিত্যক্ত কলাগাছের কান্ড দিয়ে তৈরি হচ্ছে মূল্যবান ফাইবার

পীরগঞ্জে প্রাচীন মসজিদ সংরক্ষণের দাবী এলাকাবাসীর

#

শিহাবুর রহমান (পীরগঞ্জ)

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,  9:39 PM

news image

রংপুর জেলার পীরগঞ্জে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি প্রাচীন এবং ছোট মসজিদ। অত্র উপজেলার ৭ নং বড় আলমপুর ইউনিয়নের রাজারামপুর গ্রামের জয়পুরপাড়ায় অবস্থিত।

স্থানীয়দের দাবি, কয়েকশ বছরের পুরনো এই মসজিদটি ইসলামী স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন বহন করে। মসজিদটির সঠিক ইতিহাস কেউ জানে না। কবে, কে নির্মাণ করেছে, তার তথ্য নেই স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছেও। তবে তাদের বাপ-দাদা থেকে শুরু করে সবাই ছোটকাল থেকে এই মসজিদটি দেখেছেন। একসময় এ মসজিদের দরজা-জানালাও দেখেছেন কিন্তু এখন আর সেগুলো নেই।

সরেজমিন দেখা যায়, মসজিদটি এতটাই ছোট যে একসঙ্গে দুই-তিনজনের বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারত না। স্থানীয়রা জানান, এই ছোট প্রাচীন মসজিদের ভেতর ছিল রহস্যময় একটি পাথর।

পাথরটির ওজন ৫ থেকে ৭ কেজি হবে। কালো রঙের চতুষ্কোণ বিশিষ্ট এই পাথরটি সবার দৃষ্টি কাড়ত। তাই সবাই পাথরটি বাড়ি নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু কেউ সেটি বাড়িতে নিয়ে রাখতে পারত না। কেউ বাড়িতে নিয়ে গেলেও দৃষ্টি সরানোই মাত্র পাথরটি উধাও হয়ে যায় এবং আবার মসজিদেই পাথরটি পাওয়া যায়। মসজিদটির কোথাও সাপ থাকত বলেও জানান এলাকাবাসী। তারা জানান, সাপটি যখন ক্ষেতের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করত তখন সেই ক্ষেত পুড়ে যেত। তবে সাপটি কখনো তারা চোখে দেখেননি।

অনেকেই বলছেন, এই মসজিদের মধ্যে গুপ্তধন আছে। যারা এই পাথর নিয়ে যেত, তারাই টাকা-পয়সা দেখতে পেত এবং এই টাকা পয়সা নিয়ে গেলে তারা পাগল হয়ে যেত। এমনকি একজন মারাও গেছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা রহস্যঘেরা মসজিদটি ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে তার ঐতিহাসিক অস্তিত্ব। ঘন গাছপালা ও লতাপাতায় ঘেরা মসজিদটির কাঠামো এখন অনেকটাই প্রকৃতির সঙ্গে মিশে গেছে। বিশাল একটি পুরনো পাকুড় গাছের শিকড় ও কান্ডের আড়ালে মসজিদের ক্ষুদ্র স্থাপনাটি প্রায় ঢেকে গেছে। মসজিদের প্রবেশপথটিও অন্ধকার ও ঝোপঝাড়ে আবৃত। চারপাশে পড়ে আছে শুকনো পাতা ও আগাছা।

ঐ জমির মালিক একই গ্রামের বছির উদ্দিন পাইকারের ছেলে, মোকছেদ আলী পাইকার মসজিদটির ঐতিহাসিক বর্ণনা দিয়ে বলেন, মসজিদের জায়গাটি এখন আমাদের। এটি আমরা পৈতৃক সূত্রে পেয়েছি। যদি সরকার মনে করে এটি সংস্কার করে নামাজ পড়ার মতো পরিবেশ করে দেবে, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। পার্শ্ববর্তী গাজী খাঁ গ্রামের বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বলেন, আমি মসজিদটি ছোটকালে দেখেছিলাম। মসজিদটির নির্মাণকাল সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য আমরা জানি না। তবে বংশপরম্পরায় এটি বহু বছরের পুরনো মসজিদ হিসেবে জেনে আসছি।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করে বলেন, এখনই উদ্যোগ না নিলে এই প্রাচীন মসজিদটির অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যেতে পারে। এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারকও। তাই দ্রুত এর প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ, ইতিহাস অনুসন্ধান এবং সংরক্ষণের দাবি জানান তারা।

বিষয়টি নজরে আনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান দৈনিক আজকের আওয়াজ পত্রিকার প্রতিবেদককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, স্থানটি সরেজমিন পরিদর্শন করে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় পুরাকৃত অধিদপ্তরে যোগাযোগ করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

logo

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: ইমাম হোসেন