ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
লাকসাম স্টেডিয়াম সংস্কারের দাবীতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বরাবর এড. সুজনের স্মারকলিপি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে আলমপুর সর: প্রা: বি: মাঠে কাবাডি খেলা অনুষ্ঠিত পোরশায় শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০২৬ উদযাপিত কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত লাকসামে দৌলতগঞ্জ মহিলা এতিমখানার কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা পীরগঞ্জে পৌর ভবনের বারান্দার ছাদ ধসে দুই শ্রমিক নিহত, আহত ৪ বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ শ্রীমঙ্গলের উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ ডিএমপির সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ সভায় শ্রেষ্ঠ হলেন যারা বেনাপোলে আবু তাহের ভারতকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে পৌর বিএনপির সংবাদ সম্মেলন পীরগঞ্জে পরিত্যক্ত কলাগাছের কান্ড দিয়ে তৈরি হচ্ছে মূল্যবান ফাইবার

চাষীর নিষ্ঠুরতায় বিপন্ন প্রাণী বৈচিত্র্য

#

নাজমুল আদনান (টাঙ্গাইল)

১১ এপ্রিল, ২০২৬,  8:09 AM

news image

​ফলের বাগান রক্ষা করতে গিয়ে এক অমানবিক পথ বেছে নিয়েছেন স্থানীয় কৃষক গফুর ও তার সন্তান ফারুক ।

সন্ধানপুর ইউনিয়ন নুরনগর ওয়ার্ডের বটতলা বিট আওতাধীন  নিজের বাগানে সুরক্ষার নামে তিনি যে মরণফাঁদ পেতেছেন, তাতে গত এক মাসে প্রাণ হারিয়েছে শত শত বন্য পাখি। মতির এই নিষ্ঠুরতায় একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

​মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে মতির বাগান ​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের গাছগুলো ঢেকে দিতে অতি সূক্ষ্ম এবং শক্ত প্লাস্টিক বা নাইলনের জাল ব্যবহার করা হয়েছে। ফলের লোভে আসা দোয়েল, শালিক, ঘুঘু থেকে শুরু করে বিরল প্রজাতির অনেক পাখি এই জালে একবার আটকালে আর বের হতে পারছে না। দীর্ঘক্ষণ ঝুলে থেকে ও ছটফট করে শেষ পর্যন্ত তৃষ্ণায় ও ক্লান্তিতে পাখিগুলো মারা যাচ্ছে।

​এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ ​স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সকালে বাগানের জালের সাথে অসংখ্য নিথর পাখি ঝুলে থাকতে দেখা যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কৃষক গফুর ও তার সন্তান ফারুক বারবার এই পদ্ধতি পরিবর্তন করার অনুরোধ জানানো হলেও তিনি তা কানে তুলছেন না।

স্থানীয় এক তরুণ পরিবেশকর্মী বলেন:​"ফসল রক্ষা করার অধিকার কৃষকের আছে, কিন্তু এভাবে নির্বিচারে পাখি নিধন করার কোনো অধিকার নেই। এটা স্পষ্টত অপরাধ।"

​হুমকির মুখে পরিবেশের ভারসাম্য ​পাখি বিশারদ ও পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে গণহারে পাখি মৃত্যু চলতে থাকলে ওই এলাকায় পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যাবে।

কারণ এই পাখিগুলোই প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসলের সুরক্ষা দেয়। বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী এটি দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও  কৃষক গফুর ও তার সন্তান ফারুক এমন কর্মকাণ্ড বন্যপ্রাণীদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

​প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা​এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে কৃষি বিভাগ ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তারা মতির এই অমানবিক জাল অপসারণের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে (যেমন: রঙিন ফিতা বা কাকতাড়ুয়া ব্যবহার) বাগান রক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি রক্ষায় আমাদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি।

logo

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: ইমাম হোসেন