আলমগীর মোল্লা (গাজীপুর)
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, 2:28 AM
গাজীপুরে কালীগঞ্জে চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয়ের শত বছর উদযাপন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রতিষ্ঠার শত বছর উদযাপন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠানের সাবেক ছাত্র বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ খালেকুজ্জামান বাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ডক্টর রফিকুল ই ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার মহাপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডক্টর এসএম হাফিজুর রহমান, ব্র্যাক ব্যাংকের ডিএমডি এন্ড হেড অব অপারেশন মোঃ মনিরুজ্জামান মোল্লা।
এছাড়াও বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় সহস্রাধিক অতিথি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নে প্রত্যন্ত গ্রাম চুপাইরে ১৯২৫ সালে স্থানীয় জ্ঞানতাপস বাবু শশী মোহন চক্রবর্তী বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার দেবনাথের নেতৃত্বে ১৭জন সহকারী শিক্ষক ষষ্ঠ থেকে মাধ্যমিক শ্রেণী পর্যন্ত ৫৩০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষা প্রদান করে যাচ্ছেন। বিদ্যালয়ে ৭জন কর্মচারী রয়েছেন।
এই বিদ্যালয়টিতে শুধু চুপাইর গ্রাম নয়, পার্শ্ববর্তী কলাপাটুয়া, ছৈলাদী, মেন্দিপুর, বড়ভোলা, বাগদী, রাতকানা, শিংলাব, কাপাইশ, শিবপুর, বেলনা, মাঝুখান, জাংগালিয়া, ফুলদী, বাঘুন, মৈশাইর, কলুন, কৌচান, দক্ষিনবাগ, ভাটিরা ও উত্তর জামালপুর জুড়ে বিস্তৃত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এখানে জ্ঞান অর্জনে ছুটে আসে।
অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বলেন, আজ শতবর্ষ পূর্ণ করে চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয় দাঁড়িয়ে আছে গর্বের সাথে। এই বিদ্যালয়ের সাথে জড়িয়ে আছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আবেগ, দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা। এই বিদ্যালয় কেবল পড়াশোনার জায়গা নয়, এটি একটি বিশ্বাস, একটি আত্মিক বন্ধন।
অতীতের ঐতিহ্য, বর্তমানের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন সবকিছু মিলিয়ে এটি শুধু একটি বিদ্যালয় নয়, একটি ইতিহাস। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আয়ের একটি অংশ দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কল্যাণ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা সহায়তা পায় এবং কোনো সন্তান যেন অর্থের অভাবে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়। বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।