নিশাত শাহরিয়ার
১৫ মে, ২০২৬, 10:51 PM
গণসংহতি আন্দোলন পল্লবী থানার প্রথম সম্মেলনের উদ্বোধন
গণসংহতি আন্দোলন পল্লবী থানার প্রথম সম্মেলনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধন করেন শহীদ জুলফিকার শাকিলের মা বিবি আয়েশা। দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব মাহবুব আলম রতন।
পল্লবী থানার আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম নোমানের সভাপতিত্বে দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয় বিকাল ৩টায়। দ্বিতীয় অধিবেশনের শুরুতে সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন পল্লবী থানা কমিটির সদস্য সচিব প্রদীপ রায়।
ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা মহানগর এর শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক ইয়াছিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আব্দুর রশীদ নীলু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেওয়ান নীলু বলেন, ২৪ এর গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হলেও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা দূর হয়নি। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা দূর করতে হলে জনগণের স্বার্থের মুক্তিকামী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
গণসংহতি আন্দোলন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জনগণের স্বার্থের সেই মুক্তিকামী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। জনগণের বৃহত্তর স্বার্থের বাইরে আমাদের আলাদা কোনো স্বার্থ নাই।
তিনি আরও বলেন, আগাম বন্যায় কৃষকের ফসল নষ্ট হচ্ছে। আবার ডিজেলের সংকটে কৃষক জমিতে সেচ দিতে না পেরে, ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদেরকে কৃষকের পাশে দাঁড়াতে হবে।
সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত পল্লবী থানার নতুন কমিটিকে জনগণের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে তিনি আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শ্রমিক নেতা বাচ্চু ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। বিভিন্ন জায়গায় হকার উচ্ছেদ করা হচ্ছে পূণর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়াই। শ্রমিককে বাদ দিয়ে দেশের কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব না। গণসংহতি আন্দোলন শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু নেতাকর্মীদেরকে নিজ নিজ এলাকায় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করতে আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর এর আহবায়ক মনিরুল হুদা বাবন বলেন, লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই দল বিকশিত হয়। গণসংহতি আন্দোলন জনগণের অধিকার আদায়ে সেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর এর সদস্য সচিব মাহবুব আলম রতন বলেন, রাষ্ট্রের ব্যর্থতায় হামের টিকা না পেয়ে এবং সুচিকিৎসার অভাবে ৪০০ এর অধিক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়েই নাগরিক অধিকার আদায়ে রাষ্ট্রকে করতে হবে। আর সেজন্য জনগণের স্বার্থের দল গণসংহতি আন্দোলনকে জনগণের দোরগোড়ায় নিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর এর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সাংগঠনিক উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লুৎফুন্নাহার সুমনা পল্লবী থানার নব নির্বাচিত কমিটির নাম ঘোষণা ও পরিচয় করিয়ে দেন। এসময় তিনি বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে কমিটিতে বিভিন্ন জন বিভিন্ন দায়িত্বে থাকলে আমরা সকলেই সমান ও সহযোদ্ধা। জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন কমিটির সকলকে কাজ করতে হবে।
এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমখাত বিষয়ক সম্পাদক আলিফ দেওয়ান, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক তৌহিদুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটি পরামর্শক সদস্য গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অবঃ) খালেদ হোসাইন, কাফরুল থানার আহ্বায়ক রতন তালুকদার, পল্লবী থানার যুগ্ম আহ্বায়ক আইনুল হক ও শাহ মান্না, পল্লবী থানার সদস্য সজল রাজ, রোজিনা বেগম ও সাইদুল ইসলাম।
আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পরিষদ সদস্য সেন্টু খান, রাব্বিকুল ইসলাম সজীব, আকলিমা আক্তার আঁখিসহ পল্লবী থানার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিট কমিটির নেতৃবৃন্দ।
সম্মেলনে আশরাফুল ইসলাম নোমানকে সভাপতি, শ্রমিক নেতা আইনুল হককে সিনিয়র সহ-সভাপতি, শাহ্ মান্না সহ সভাপতি, প্রদীপ রায়কে সাধারণ সম্পাদক ও সজল রাজকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।