আব্দুল আউয়াল মুন্না (চট্টগ্রাম প্রতিনিধি)
১৩ জুন, ২০২৬, 11:48 PM
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য জাতির জন্য লজ্জাজনক: জামায়াত আমির
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া জাতির জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার বিকালে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি কক্সবাজারের এক অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন, বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও ধূমপানজাত পণ্যের কর বাড়ানোর প্রতিবাদে মিছিল করেছে। এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়া। বিরোধী দলের কেউ এমন কর্মসূচি পালন করেনি।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। তার মুখ থেকে বারবার ভুল তথ্য বের হওয়া দেশের জন্য ক্ষতিকর। যারা তাকে ভুল তথ্য দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বাজেট প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া জানানো গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা। অল্পতেই ধৈর্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন, ওই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার ৫১ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে ক্ষমতায় থাকার দাবি করলেও দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মতামত উপেক্ষা করছে। যে সরকার জনগণ মানে না, তারা জনগণের সরকার হতে পারে না।
সংসদের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, জনগণের সমস্যা সমাধানের জন্য তারা সংসদে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার তাদের জনগণের কাতারে ঠেলে দিয়েছে।
তিনি বলেন ‘সংসদে কথা বলতে স্পিকারের অনুমতি লাগে, কিন্তু জনগণের সংসদে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না।’
সীমান্ত ইস্যু নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে তিনি আর বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে চাইলেও সরকার সুযোগ দেয়নি। আমরা আলোচনা করব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে আরও সুসংহত করার জন্য।
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে। এমন আশা মানুষ করেছিল। বাস্তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেই সরকার অস্বস্তি বোধ করে।
শফিকুর রহমান সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়ন না করলে অতীতের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। জেলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। যারা দেশের জন্য ফাঁসিকেও তুচ্ছ মনে করে, তারা সবসময় প্রস্তুত। তালা যেমন পরিবর্তন হয়, চাবিও পরিবর্তন হয় এটা মাথায় রাখতে হবে।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।