নাজমুল আদনান (টাঙ্গাইল)
১৫ মে, ২০২৬, 4:02 AM
সুদ সিন্ডিকেটের কবলে সংগ্রামপুরবাসী
টাঙ্গাইল ঘাটাইল উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে অবৈধ ‘সুদ সিন্ডিকেট’। চক্রবৃদ্ধি সুদের জালে আটকে এলাকার অসহায় ও নিম্নবিত্ত মানুষের সর্বস্ব হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল।
এই সিন্ডিকেটের মানসিক ও শারীরিক চাপে গত তিন মাসে দুইজন ব্যক্তি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এখন এই সুদ ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
মর্মান্তিক মৃত্যুর মিছিল স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুদের টাকার প্রচণ্ড চাপে গত ১০ মে শহিদুল নামে এক যুবক বেলুয়াটিকি এলাকায় অবস্থিত নিজের দোকানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
তার পরিবারের দাবি, ঋণের বিপরীতে আকাশচুম্বী সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
এর মাত্র তিন মাস আগে, একই ইউনিয়নের লাহেরবাড়ি গ্রামের হারু নামের আরও একজন ব্যক্তি সুদের টাকার জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। একের পর এক এই প্রাণহানির ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যেভাবে কাজ করছে সিন্ডিকেট সংগ্রামপুর ইউনিয়ন ও বোয়ালিহাটবাড়ি ৬ নং ওয়ার্ডের সচেতন বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরো ইউনিয়ন জুড়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তাদের এই অবৈধ কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।
সামান্য টাকা ধার দিয়ে কয়েক মাসের ব্যবধানে তা কয়েকগুণ বাড়িয়ে তোলা হয়। কিস্তি বা সুদের টাকা দিতে দেরি হলে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি-ধমকি, গালিগালাজ এবং অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে।
টাকার জন্য গ্রামে গ্রামে নিয়মিত বিবাদ ও অশান্তি লেগে থাকছে, যা এলাকার সামাজিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি এই সুদের ব্যবসার বিরুদ্ধে সংগ্রামপুর ও বোয়ালিহাটবাড়ির সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল এখন ঐক্যবদ্ধ। এলাকাবাসী এই সিন্ডিকেটের প্রতি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তাদের মতে, এখনই যদি এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করা না হয়, তবে আরও অনেক প্রাণ অকালে ঝরে পড়বে।
ভুক্তভোগী এক গ্রামবাসী জানান, "এরা মানুষকে সাহায্যের কথা বলে ঋণের ফাঁদে ফেলে। একবার সেই ফাঁদে পড়লে ঘরবাড়ি বিক্রি করা ছাড়া উপায় থাকে না। আমরা প্রশাসনের কাছে এই খুনি চক্রের বিচার চাই।"
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ সংগ্রামপুর ইউনিয়নের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষকে এই শোষণ থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
গ্রামবাসীর দাবি, দ্রুত এই সিন্ডিকেটের হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক যাতে আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয় এবং আর কোনো পরিবারকে পথে বসতে না হয়।