নিশাত শাহরিয়ার
১০ মার্চ, ২০২৬, 3:33 AM
রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ঘিরে অভিনব ঔষধ বাণিজ্য
অভিনব কায়দায় ঔষধ ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতাল ঘিরে। অপারেশন থিয়েটারে রোগীর অপারেশনের পর বেচে যাওয়া ঔষধ রোগীর স্বজনদের কাছে জমা না দিয়ে দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তুলনামূলক কম মূল্যে বিক্রি করছে একটি চক্র। দৈনিক বেশ কয়েকটি অপারেশন হয় দেশের অন্যতম বৃহৎ এই হাসপাতালে। আর প্রতিটি অপারেশন শেষে বাড়তি ঔষধ কৌশলে বিক্রি করে দেয় হাসপাতালে কর্মরত একটি সিন্ডিকেট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জানান, প্রতিটি অপারেশনের সময়ই পরিমানের চেয়ে বাড়তি ঔষধ কিনে আনতে বলা হয় রোগীর স্বজনদের। হাসপাতালে কর্মরত কর্মচারীদের একটি চক্র দীর্ঘদিন থেকে এই অপকর্মের সাথে জড়িত বলে জানা যায়।
পঙ্গু হাসপাতাল ঘিরে রাস্তার দুই পাশে সরকারী জায়গা দখল করে গড়ে উঠা বেশ কয়েকটি ফার্মেসীর মালিক এবং কর্মচারীরা এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের আশপাশে সব সময়ই নিয়মিত বিভিন্ন ছদ্মবেশে ঘোরাঘুরি করে এই চক্রের সদস্যরা। রোগীর অপারেশন শেষ হলেই শুরু হয় বেচে যাওয়া ঔষধ কৌশলে বাইরে বিক্রি করার ধান্দা।
পঙ্গু হাসপাতাল ঘিরে গড়ে উঠা এই ঔষধ সিন্ডিকেটের কাছে চরম অসহায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তার স্বজনরা। মূলত কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আর অব্যবস্থাপনার কারনেই দিনের পর দিন গড়ে উঠেছে দালাল চক্রের শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
ভুক্তভোগীরা আক্ষেপের সুরে জানান, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত দেশের একমাত্র পঙ্গু হাসপাতালটি যেন দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ব্যে চরম বাস্তবতার কাছ হার মেনে যাচ্ছে সময়ের সাথে সাথে। দালালদের অযাচিত হস্তক্ষেপ আর ব্যবস্থাপনায় অসংগতির কারনে পঙ্গু হাসপাতালটি যেন নিজেই পঙ্গুত্ব বরণ করছে ধীরে ধীরে।
ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে একটি অসাধু চক্র এই ঔষধ সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে গঠনমূলক সিদ্ধান্ত নেয়া যাতে করে অপারেশন থিয়েটারে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঔষধ কিনতে রোগীকে বাধ্য না করা হয় এবং অপারেশন শেষে বেচে যাওয়া ঔষধ রোগীর স্বজনকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
জবাবদিহিতার বর্তমান বাংলাদেশে পঙ্গু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত ঔষধ সিন্ডিকেটের বিরূদ্ধে দ্রুত এবং কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করা এবং জনস্বার্থে গঠনমূলক ভূমিকা রাখা।