নিশাত শাহরিয়ার
১৯ মে, ২০২৬, 3:58 AM
বাংলাদেশ বেতারে একই সময়ে একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন হাতে গোনা কয়েকজন এনাউন্সার
বাংলাদেশ বেতারে একই সময়ে একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন হাতে গোনা কয়েকজন এনাউন্সার-এমন অভিযোগ শোনা যাচ্ছে প্রায়। এই বিষয়টি বেতারে চলমান থাকলে সময়ের সাথে সাথে সকলের মাঝেই এই প্রবণতা কাজ করবে বলে আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ বেতারের সচেতন উপস্থাপক-উপস্থাপিকারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এনাউন্সার জানান, এক সেকশনের ডিউটির সময় আধা ঘন্টা বাকী থাকতেই কেউ কেউ অন্য আরেকটি সেকশনের অনুষ্ঠানে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যান।
আবার দেখা যায়, এক সেকশনের অনুষ্ঠানের ক্লোজিং টাইমে উপস্থিত না থেকে অন্য সেকশনের অনুষ্ঠানে চুক্তিবদ্ধ থাকায় ঐ সেকশনের অনুষ্ঠান ওপেনিংয়ে চলে যায় কেউ কেউ। তবে সবাই না, কয়েকজনের মাঝে এই প্রবণতা চরমভাবে পরিলক্ষিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আবার অনেক সময় দেখা যায়- এক সেকশনের অনুষ্ঠানের ক্লোজিংয়ের নির্দিষ্ট সময়ে কেউ কেউ সংবাদ পড়েন। একই সময়ে ক্লোজিং আবার একই সময়ে সংবাদ পাঠ! এসব ঘটনা ইদানিং বেশি হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে।
অনেকেই নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, এসব বিষয়ে বললে কিংবা নিষেধ করলে ডিউটি কমে যাবার আশঙ্কা থাকে কিংবা অনেকের কাছেই শত্রু হতে হয়। তারা জানান- যারা এসব করে তাদের রয়েছে একটি বড় সিন্ডিকেট। আবার কখনো কখনো কেউ কেউ নাকি নিজের মতো বিষয়গুলো বিভিন্ন উপায়ে ম্যানেজ করে ফেলেন।
এদিকে, বেতারের বর্হিবিশ্ব সার্ভিসে মাসের পর মাস প্যাকেজ অনুষ্ঠান বা সংবাদ পাঠে আগ্রহ দেখানোর পরও অনেককে সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। পক্ষান্তরে যে আগে থেকেই অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে আসছে সেই একই ব্যক্তি আবার প্যাকেজ অনুষ্ঠানও করছে! এ যেন বাংলা ব্যাকরণের একের ভেতর তিন টাইপের অবস্থা! এই বিষয়গুলোকে একেবারে বিমাতাসুলভ আচরণ বলে মনে করছেন বন্চিত এনাউন্সসাররা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সরকারী প্রচার মাধ্যমে এমন বাস্তবতা অনেককেই কষ্ট দেয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
বেশ আক্ষেপের সাথে বেশ কয়েকজন এনাউন্সার জানান, সরকারী প্রচার মাধ্যম হিসেবে বেতার কখনোই কারো পুনর্বাসনের জায়গা হতে পারে না। বেতারের টাকায় বাসা ভাড়া, সন্তানের স্কুলের বেতন, সংসার চালানোসহ নানাবিধ সমস্যা কখনো কারো বেশি পরিমান অনুষ্ঠান পাবার মাপকাঠি হতে পারে না। সরকারী প্রচার মাধ্যম হিসেবে যেখানে সবার সমান অধিকার থাকার কথা সেখানে সমপরিমান যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা থাকা সত্বেও অনেকেই অনুষ্ঠানের সুযোগ পাচ্ছেন না মাসের পর মাস।
আবার যারা দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী দাপটে বেতারকে জিম্মি করে একচেটিয়া অনুষ্ঠান করতো তাদের অনেককেই বেতার কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অনুষ্ঠান দিয়ে যাচ্ছে তাদের ইচ্ছেমতো। হাতে গোনা কিছু মানুষ সব শাসনামলেই সুবিধাবাদী এই বিষয়টি ভীষন লজ্জার বলে মনে করেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুসারীরা। উত্তোরনের মতো একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে কতজন বার বার চেয়েও অংশগ্রহনের সুযোগ পায় না আবার কেউ নাকি একাই চারটা/পাঁচটা অনুষ্ঠান করছে নিয়মিত।
সময়ের বাস্তবতায় এসব নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বেতার কর্তৃপক্ষকে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন বেতারের তালিকাভুক্ত অনুষ্ঠান উপস্থাপক-উপস্থাপিকাসহ শিল্পী ও কলাকুশলীরা। বেতার কারো পুনর্বাসনের জায়গা নয় বেতার হবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সকলের যোগ্যতার মাপকাঠির আদর্শ কেন্দ্রস্থল- এমনটাই মনে করেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুসারীরা।