ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
লাকসাম স্টেডিয়াম সংস্কারের দাবীতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বরাবর এড. সুজনের স্মারকলিপি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে আলমপুর সর: প্রা: বি: মাঠে কাবাডি খেলা অনুষ্ঠিত পোরশায় শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০২৬ উদযাপিত কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত লাকসামে দৌলতগঞ্জ মহিলা এতিমখানার কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা পীরগঞ্জে পৌর ভবনের বারান্দার ছাদ ধসে দুই শ্রমিক নিহত, আহত ৪ বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ শ্রীমঙ্গলের উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ ডিএমপির সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ সভায় শ্রেষ্ঠ হলেন যারা বেনাপোলে আবু তাহের ভারতকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে পৌর বিএনপির সংবাদ সম্মেলন পীরগঞ্জে পরিত্যক্ত কলাগাছের কান্ড দিয়ে তৈরি হচ্ছে মূল্যবান ফাইবার

পীরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি যেন দূর্নীতির আতুরঘর

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ মে, ২০২৬,  7:33 AM

news image

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১,শঠিবাড়ী এর অধিনে পীরগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতায় চতরা সাব স্টেশন এবং অফিযোগ কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম, বৈদ্যুতিক মালামাল চুরি, অর্থের বিনিময়ে সেবাপ্রদানসহ গ্রাহক হয়রানীর হাজারোও অভিযোগ উঠেছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রে জানা যায়, চতরা সাব স্টেশনটি এক সময় একটি আর্দশ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র হিসাবে সকলের কাছে পরিচিতি ছিলো। এখানে গ্রাহক নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকে প্রাধান্য দিয়ে তাঁদের সব সমস্যার সমাধান পেতেন খুব সহজেই। অফিসের দুটি মোবাইল ফোন সব সময় খোলা থাকতো আর এখন একটি ফোন প্রায়ই বন্ধ থাকে আর একটি কেউ রিসিভ করেন না।

কোন বৈদ্যুতিক দূর্ঘটনার সংবাদ দেওয়ার সময়ও দেখা যায় ফোন বন্ধ। নিয়ম অনুযায়ী সার্বক্ষনিক ফোন দু'টি চালু থাকার কথা। বর্তমানে এই প্রতিষ্টানটি অনিয়ম আর দূর্নীতির আতুরঘরে পরিনত হয়েছে।

গত ১৯ মার্চ ২৬ইং সকালে অফিস থেকে বৈদ্যুতিক মালামাল চুরি করে সিসিটিভি ক্যামেরায় চোর সনাক্ত হওয়া উক্ত অফিসেই কর্মরত লাইনম্যান গ্রেড-১ মোঃ শফিকুল ইসলাম টাইগারসহ জনৈক বাড়ীওয়ালা আতিয়ার রহমান।

স্হানীয় জনতার সহায়তায় চুরির মালামাল উদ্ধার হলেও দোষী শফিকুল ইসলাম টাইগার থেকে গেলেন বহাল তবিয়তে। যদিও ঐ দিন উক্ত অফিসের কর্মরত সকলের কাছে আলাদা ভাবে লিখিত বক্তব্য নিয়ে যান কতৃপক্ষ।

কিন্তু অদৃশ্য কারনেই তার বিরুদ্ধ কতৃপক্ষ আর কোন পদক্ষেপ না নেওয়ার সে আরোও বেপরোয়া হয়ে উঠে। চালিয়ে যাচ্ছে তার অপকর্ম।

এর আগে সুন্দরগঞ্জে নারী কেলেংকারী, বিদ্যুৎ বিলের টাকা তছরুপসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে চতরায় বদলী করা হয়।

প্রথমে একটু স্বাভাবিক থাকলেও নৈশ্য প্রহরি আজাদুলের সহায়তায় আবারও চালিয়ে যান তার পূর্বের অপকর্ম। যদিও বিভিন্ন অনিয়ম এবং উক্ত অফিসে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারসহ অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানে সহায়তার জন্য আজাদুল ইসলামকে মিঠাপুকুর গ্রিডে বদলী করা হয় গত আগষ্ট ২৫ ইং প্রথম সপ্তাহে।

কোন ক্ষমতার জোরে মাত্র ৮ মাস যেতে না যেতেই সেই আজাদুল ইসলাম আবারও বেশী শক্তিশালী হয়ে বদলী হয়ে আসেন চতরা সাব স্টেশনে।

অপরদিকে, বর্তমানে ইনচার্জ হিসাবে গত মার্চ ২৬ ইং প্রথমের দিক থেকে দ্বায়িত্বে থাকা মোঃ হারুন অর রশিদ লাইন টেকনিশিয়ান প্রতিদিন অফিস করেন পীরগঞ্জ জোনাল অফিসে।

যদিও বিধি মোতাবেক স্বশরীরে তার সার্বক্ষনিক উপস্থিত থাকার কথা চতরা অফিসে কিন্তু ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ রবিউল আলমের সাথে খুব ভালো সম্পর্কের কারণে সপ্তাহে দু/একদিন চতরা অফিসে এসে শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। আর তাও না আসলে হাজিরা খাতা জোনাল অফিসে সেই টাইগার নিয়ে গিয়ে স্বাক্ষর করে নিয়ে আসেন। তার বদলে টাইগার পাচ্ছেন ইনডোর সাব স্টেশনের ইনচার্জের দ্বায়িত্ব।

আর কি ভাবে কার শিল্প, কৃষি, বান্যিজিক সংযোগে কাকে দিয়ে স্থানান্তর করাসহ সেই গ্রাহকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করিয়ে সে সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তার কাছ থেকে দশ/বিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে আবার সেই বৈদ্যুতিক সংযোগ পুনরায় দেওয়ার কাজে ব্যস্ত থাকেন।

এছাড়াও একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আবাসিক সংযোগ থেকে বানিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা, শিল্প থেকে সেচ পরিচালনা, আবার আবাসিক থেকে একরে একরে জমিতে সেচ প্রদানকরণসহ যা ইচ্ছে তাই করেন আর টাকা লেন-দেনের দ্বায়িত্ব পালন করেন সেই নৈশ প্রহরী আজাদুল ইসলাম।

তারপর ভাগবাটোয়ারা করে হিস্রা অনুযায়ী জোনাল অফিসের কিছু কর্মকর্তার কাছে পৌছেন দেন টাইগার। এ যেন সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়।

শুধু তাই নয় ডেপুটি জোনারেল ম্যানেজার এর সাথে সখ্যতা থাকার কারণে গত ফেব্রুয়ারী ২৬ইং মাসে বর্তমান ইনচার্জ হারুন অর রশিদকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চৈতন্য বাজার অভিযোগ কেন্দ্রে বদলী করা হলেও সেখান থেকে মাত্র ১৪দিন পর চতরা সাব স্টেশনের ইনচার্জ হিসাবে বদলী করে পীরগঞ্জ অফিসে রেখে চতরা সাব স্টেশনকে দূর্নীতির আতুর ঘরে পরিনত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া নতুন কোন সংযোগ নিতে গেলেও গ্রাহককে গুনতে হচ্ছে সর্বনিম্ন ৬-১০ হাজার টাকা আর ধর্ণাদিতে হয় মাসের পর মাস। কোথাও কোন কারণে বিদ্যুৎ না থাকলে সেটি অভিযোগ দেওয়ার পরে বলা হয় বকসিস দিতে হবে ২ থেকে ৫ শত টাকা।

টাকা ছাড়া গ্রাহক সেবা না পাওয়ার অভিযোগ শতশত। অপরদিকে আকাশে মেঘ না আসতেই বিদ্যুৎ এর সব সংযোগ বন্ধ করে বসে থাকেন সাব স্টেশনে।

এভাবে আর কতদিন চলবে সাধারণ গ্রাহকদের মনে এমন অনেক প্রশ্ন। উপরোক্ত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশুদৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অপেক্ষায় এলাকার সচেতন মহল।

logo

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: ইমাম হোসেন