আলমগীর মোল্লা (গাজীপুর)
২০ মে, ২০২৬, 12:42 AM
কালীগঞ্জে বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) ১৮ মে ২০২৬ গাজীপুরের কালীগঞ্জে বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগমের বিরুদ্ধে কাঙ্খিত অর্থ না পাওয়ায় এসএসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে রাখা, অর্থের বিনিময়ে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এসএসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া, ছাত্র হাজিরা খাতায় ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি নাম তালিকাভুক্তি, বোর্ড বই বিক্রি ও বিদ্যালয়ের জমিতে দোকান নির্মাণ করে অর্থ আত্মসাতসহ সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ সেশনে নবম শ্রেণীতে ৪৭ জন ছাত্র ছাত্রী রেজিস্ট্রেশন করা হলেও টেস্ট পরীক্ষায় ২৮ জন কৃতকার্য হয়। এছাড়াও ১৫ জন অনিয়মিত ছাত্র ছিল।
২০২৬ সালের এসএসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৩ জন শিক্ষার্থী ছাড়াও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম গঠনিকা বিদ্যানিকেতন ও নতুন কুঁড়ি কিন্ডার গার্টেনসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের আরও ৫০ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করেন।
নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উর্মি হাবীবা, সৃজন রক্ষিত ও শাহাদাত হোসেনের ফরম পূরণ না করলেও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের অধীনে ফরম পূরণ করেছেন বলে অভিযোগ।
কাঙ্খিত অর্থ না পাওয়ায় মানবিক বিভাগের শিহাব (রোল ৩১২৭৪, রেজি: ২৩১০৮১২৬০) ও মোঃ রিফাত (রোল ৩১২৭৫, রেজি: ২৩১০৮১২৫৯৬), ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিপুল রায় (রোল ৩১২৮১, রেজি: ২৩১০৮১২৭৫), শোভন এগ্নেসিয়াস ক্রুশ (রোল ৫১৪০২১, রেজি: ২৩১০৮১২৭০৪) এবং নিরব হোসেনের (রোল ৫১৪০২, রেজি: ২৩১০৮০২৪৬৮) প্রবেশপত্র আটকে দেন প্রধান শিক্ষিকা। ফলে ফরম ফিলাপের পরও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তারা এবারের এসএসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।
কোনো সহকারী শিক্ষক প্রতিবাদ করলে তাদেরকে শোকজসহ নানা ভাবে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম প্রায় ১২ বছর ধরে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভর্তিকৃত ছাত্রের চেয়ে হাজিরা খাতায় দুই-তিন গুণ বেশি ছাত্র দেখিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বোর্ড বই সংগ্রহ করছেন বলে অভিযোগ।
পরে পার্শ্ববর্তী গঠনিকা বিদ্যানিকেতন, নতুন কুঁড়ি কিন্ডার গার্টেন-১ (দূর্বাটি) ও নতুন কুঁড়ি কিন্ডার গার্টেন-২ (ভাদার্তী) সহ বিভিন্ন অননুমোদিত বেসরকারি বিদ্যালয়ে ওই বইগুলো উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করছেন।
গত ১৭ মে নাগরী ইউনিয়নের গঠনিকা বিদ্যানিকেতনের মালিকানাধীন একটি দোকান থেকে বিভিন্ন শ্রেণীর দুই বস্তা বোর্ড বই উদ্ধার করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম।
এসএসি পরীক্ষার্থী মোঃ রিফাতের মা হোসনেয়ারা আক্তার জানান, আমার ছেলের প্রবেশপত্র আসার পরও প্রধান শিক্ষিকার চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় তাকে প্রবেশপত্র দেয়নি।
এবার পরীক্ষা দিতে না পারায় আমার ছেলের শিক্ষা জীবন থেকে একটি বছর নষ্ট হয়ে গেছে। অন্য চারজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকও একই অভিযোগ করেন।
গঠনিকা বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক দিলীপ চন্দ্র বণিক জানান, আবেদনের পরও আমাদের বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি না পাওয়ায় আমরা ১০ বছর ধরে বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে বোর্ড বই সংগ্রহ, রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণ করে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছি।
বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম বলেন, আমি বেসরকারি কিন্ডার গার্টেন স্কুল ও এলাকাবাসীর অনুরোধে বিদ্যালয়ের স্বার্থে বহিরাগত ছাত্রদের বোর্ড বই সরবরাহ ও ফরম পূরণ করি। টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ পাঁচজন শিক্ষার্থীর ভুলবশতঃ ফরম পূরণ হয় বিধায় আমি তাদের প্রবেশপত্র প্রদান করিনি।
বহিরাগত অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ, বোর্ড বই বিক্রি ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নিরব থাকেন। বিদ্যালয়ের জমিতে দোকান নির্মাণ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, বিগত কমিটির সাথে আলোচনা করেই যাবতীয় কাজ করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।