নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ মে, ২০২৬, 6:11 PM
অনিয়মকে নিয়ম করেই চলছে পীরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ শঠিবাড়ীর অধিনে পীরগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতায় চতরা সাব স্টেশন কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম, বৈদ্যুতিক মালামাল চুরি, অর্থের বিনিময়ে সেবা প্রদানসহ গ্রাহক হয়রানীর অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
শঠিবাড়ীর অধীনে পীরগঞ্জ চতরা সাব স্টেশনে ব্যাপক অনিয়ম, বৈদ্যুতিক মালামাল চুরি, অর্থের বিনিময়ে সেবাপ্রদান, গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ, আলোর নীচে অন্ধকার, পীরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দূর্নীতির আতুর ঘর এমন শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকাসহ অনলাইন টেলিভিশন এবং নিউজ পোর্টালে গত সপ্তাহ জুড়েই ছিল টক অব দ্যা টাউন।
তারপরেও অনিয়মকে নিয়ম করেই চলছে চতরা সাব স্টেশন এবং অভিযোগ কেন্দ্রে কর্মরত সেই সিন্ডিকেট কর্মচারীদের অনৈতিকভাবে গ্রাহক হয়রানি ও অর্থ লেনদেনের রমরমা ব্যবসা চলমান রয়েছে। এ যেন অপর্কম করে অর্থ আদায়ের স্বর্গ রাজ্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তির কাছে জানা যায়, চতরা সাব স্টেশনে অধিনে শিবটারী মৌজার হোপনা কিসকুর একটি মৎস্য শিল্প বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে নিজ জমিতে ধান ক্ষেতে পানি সেচের অপরাধে উক্ত মৌজার গভীর নলকূপ সেচের জনৈক ম্যানেজারকে দিয়ে পীরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করান সেই আলোচিত লাইন ম্যান গ্রেড ১,মোঃ শফিকুল ইসলাম, লাইন টেকনিশিয়ান হারুন অর রশিদ এবং চতরা সাব স্টেশনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগে সহায়তা করার অভিযোগে মিঠাপুকুর গ্রিডে বদলী করা সেই নৈশ প্রহরী আজাদুল ইসলাম।
অবশেষে কোন নোটিশ ছাড়াই গত ১৩ এপ্রিল পল্লী বিদ্যুৎ অফিস হোপনা কিসকুর সংযোগটি বিচ্ছিন্নও করে মিটার খুলে নিয়ে যায়। গ্রাহক হোপনা কিসকু ১৫ এপ্রিল অভিযোগকারী গভীর নলকূপ সেচের ম্যানেজারসহ অভিযোগ প্রত্র প্রত্যাহার পূর্বক আবেদন পত্র নিয়ে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার, মোঃ রবিউল আলম অফিস গেলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন উক্ত সংযোগ আর কোন ভাবেই পূণরায় দেওয়া হবে না এবং ওখানকার সব মালামাল খুলে অফিসে আনা হবে।
গ্রাহককে অনেক হুমকি-ধমকি দিয়ে বিদায় করে দেন। ধান ক্ষেতে পানি দিতে না পারায় তার আবাদ নষ্ট হয়ে গেলে হতাশ হয়ে গ্রাহক সেই জনৈক অভিযোগকারীর অভিযোগ, প্রত্যাহার পত্রসহ পুণরায় সংযোগের জন্য গত ২০ এপ্রিল জেনারেল ম্যানেজার বরাবর, শঠিবাড়ী অফিস স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন করেন। তিনি মানবিক বিষয় বিবেচনা করে সংযোগটি পূনরায় চালুর জন্য পীরগঞ্জ জোনাল অফিসকে অবহিত করেন। মজার ব্যাপার হলো অদৃশ্য কারণে সেই দপ্তরের আদেশ পীরগঞ্জ অফিসে কোথাও পাওয়া যায় নাই। ওয়ারিং ইন্সপেক্টর, মোঃ নাসিরুদ্দীন,চতরা সাব স্টেশনে ইনচার্জ মোঃ হারুন অর রশিদ, লাইনম্যান মোঃশফিকুল ইসলাম এবং সেই প্রভাবশালী নৈশ প্রহরী আজাদুল ইসলাম গং অফিস আদেশ গোপন করে হোপনা কিসকুর কাছে কৌশলে অফিসের বড় স্যারদের দিতে হবে এই মর্মে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এবং কাউকে এ কথা না বলার শর্তে সংযোগটি পূনরায় চালু করেন।
এ ছাড়াও শফিকুল ইসলাম টাইগার ইসলামপুর আমবাগানের পাশ্বে জনৈক সোহেলের সেচ সংযোগের মিটার পরিবর্তন করার জন্য ২ হাজার টাকা, কয়েক ফুট ড্রোপ তার পরিবর্তনের নামে ১হাজার টাকা এবং চতরা ইউনিয়নের পার কুমারপুর মৌজার নাজিমুদ্দীন এর নতুন মিটার স্হাপনের জন্য ৮ শত টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুধু তাই নয় আজাদুল ইসলামের গ্রামসহ পাশ্ববর্তী গ্রাম কৃষ্ণপুর মৌজায় বেশ কিছু আবাসিক থেকে এবং হুক ব্যবহার করে সেচ চালানোর খবর পাওয়া গেছে। আলমপুর মৌজায় ৪৭টি আবাসিক মিটার থেকে সেচ, এবং কাঞ্চন বাজারে মেহেজুলের আবাসিক মিটার থেকে বেশকিছু দোকানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে মাসোয়ারা দিয়ে আর এ সব দ্বায়িত্ব পালন করেন টাইগার এবং আজাদুল গং এবং মিটার রির্ডারগন।
যাদবপুর পীর এর ভক্ত মোতাহার(মুরিদ) অভিযোগ করেন, চতরা ইউনিয়নে যাদবপুর পীর সাহেবের মাজারে ৩ দিনব্যাপি উরস শরীফে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরেও জানুয়ারি মাসে জামানতের মাধ্যমে অস্থায়ী ভাবে মিটার স্হাপন করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর উক্ত মিটারটি খুলে নিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন বিদ্যুৎ বিলের কাগজ পাওয়া যায়নি। তৎকালীন ইনচার্জ মামুন সাহেব, টাইগার এবং বর্তমান ইনর্চাজ হারুন সাহেবকে বহুবার বলা হলেও কোন সঠিক সমাধান পাওয়া যায়নি।
পীরগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে বলেন এখনো ফাইলে কোন মিটার রিডিং বা কোন নোট পাওয়া যায়নি। আল্লাহ জানেন কপালে কি আছে, কোন সময় কোন কাগজ ধরিয়ে দিবে বিদ্যুৎ অফিস। বিদ্যুৎ অফিস মানেই আতংক, বিদ্যুৎ অফিস মানেই অনৈতিক ভাবে অর্থ আদায়ের কৌশল। তাদের নির্দিষ্ট কোন আইন নেই যখন যা বললে ঠিক তাই যেন আইন।
আবার টাকা হলেই সব হয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে। এ যেন অনিয়মকে নিয়ম করেই চলছে পীরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। এসব দেখার কি কেউ নেই? সাধারণ গ্রাহকের মনে এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। এর থেকে পরিত্রান চায় ভুক্তভোগী জনগন।
এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নিবেন বলে আশা করে অত্র এলাকার জনগণ পাশাপাশি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি চুড়ান্ত ভাবে সমাধান হোক- এমনটাই মনে করেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।