মো: আল আমিন (বিশেষ প্রতিনিধি)
১৮ মার্চ, ২০২৬, 4:17 PM
বাংলাদেশের ঈদ সংস্কৃতি ও অর্থনীতি
পবিত্র ঈদুল ফিতর কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় তিথি বা মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার সমাপ্তি নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের এক বিস্তৃত মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্যানভাস যেখানে হাজার বছরের বাঙালি ঐতিহ্য, কৃষিভিত্তিক সমাজকাঠামো এবং নাড়ির বন্ধনের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটে।
বাংলার আকাশে শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ ওঠার সাথে সাথেই "ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে" গানের কালজয়ী সুর ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যে সর্বজনীন উৎসবের ডাক দেয়, তার সবচেয়ে আবেগঘন দিক হলো ‘ঘরে ফেরা’—যা যান্ত্রিক শহর থেকে প্রাণের টানে গ্রামীণ শেকড়ে প্রত্যাবর্তনের এক সমাজতাত্ত্বিক মহাকাব্য এবং প্রমাণ করে যে বিশ্বায়নের যুগেও আমাদের পারিবারিক কাঠামো কতটা অটুট।
ঈদের বিশাল ঈদগাহে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানো এবং নামাজ-পরবর্তী কোলাকুলি ধনী-দরিদ্রের সব দেয়াল ভেঙে দিয়ে মনের কালিমা মুছে ফেলার এক প্রতীকী মহড়া হিসেবে কাজ করে, যা প্রতিবেশী ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে মিষ্টি পাঠানোর চিরাচরিত রেওয়াজের মাধ্যমে আমাদের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের আসল পরিচয় ফুটিয়ে তোলে।
বর্তমানে ঈদ কেবল উৎসব নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতির এক বিশাল চালিকাশক্তি যেখানে বার্ষিক বাণিজ্যিক লেনদেনের প্রায় ২৫ শতাংশ আবর্তিত হয় এবং পোশাক, জুতা ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজারের জোয়ার প্রান্তিক শিল্পী থেকে শুরু করে হকারদের জীবন-জীবিকা সচল রাখে।
বিশেষ করে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণের সঞ্চার করে শহর ও গ্রামের বৈষম্য কমাতে অনন্য ভূমিকা পালন করে। ইসলামি অর্থনীতির শক্তিশালী দিক যাকাত ও ফিতরা ব্যবস্থার সঠিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ দারিদ্র্য বিমোচনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ত্যাগের মহিমায় মানবিক সম্পর্কের পুনর্গঠন নিশ্চিত করে।
পরিবর্তনের হাওয়ায় গ্রামীণ মেলার স্থান ডিজিটাল বিনোদন নিলেও ঈদের ভোরে মায়ের হাতের সেমাই বা বাবার সাথে ঈদগাহে যাওয়ার চিরাচরিত আবেগ আজও অমলিন, যা অপচয় রোধ ও সম্প্রীতির মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে আমাদের উদ্বুদ্ধ করে।