ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
ঘাটাইলের মিরপুরে ইসলামী যুব কাফেলার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ স্ত্রীর সামনেই দুই লঞ্চের চাপায় প্রাণ গেল স্বামীর বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তাদের বদলী ও পদায়ন বদলি করা হলো ভাটারা থানার আলোচিত ওসি ইমাউলকে ​বাংলাদেশের ঈদ সংস্কৃতি ও অর্থনীতি নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯ বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ বন্ধ দালাল সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি ঢাকা শিশু হাসপাতাল, নিরব কর্তৃপক্ষ ভিডিও ভাইরালের পর নোয়াখালির হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওএসডি মনোয়ার হাসান জীবনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাব ধনবাড়ীর উদ্যোগে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ

যেখান থেকে শুরু বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত শিক্ষা

#

শোয়েব হোসেন

০৩ নভেম্বর, ২০২৫,  3:25 AM

news image

বাংলাদেশে উচ্চমানের সংগীত শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে আজ যে প্রতিষ্ঠানটি সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে তার নাম সরকারি সংগীত কলেজ, ঢাকা। এই প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও শ্রেণিকক্ষ চালুর ইতিহাস দেশের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রারই অংশ।

১৯৬৩ সালের ১লা জুন, বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ ও সঙ্গীত গবেষক পণ্ডিত বারীন মজুমদার-এর উদ্যোগে এই সংগীত মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় এটি ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত শিক্ষা কেন্দ্র, যেখানে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সংগীত দুই ধারাতেই নিয়মিত পাঠদান শুরু হয়।

প্রথমে কলেজটি ঢাকা শহরের একটি ছোট ভবনে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সংগীতচর্চার কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।

প্রতিষ্ঠার শুরুতে স্বল্পসংখ্যক শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রী নিয়ে পাঠদান শুরু হয়। কিন্তু অল্পদিনেই এটি সংগীতশিক্ষার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়। এই কলেজের ছাত্রছাত্রীরা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতে অসামান্য অবদান রেখেছেন।

পণ্ডিত বারীন মজুমদার কলেজটির গঠন, পাঠ্যসূচি প্রণয়ন ও শিক্ষকদের নিয়োগে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন। তিনি বিশ্বাস করতে—

“সংগীত শুধু শিল্প নয়, এটি এক গভীর সাধনা যা মানুষকে মনন, নৈতিকতা ও সৃষ্টিশীলতার শিখরে পৌঁছে দেয়।”

পরবর্তীকালে কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়। ১৯৮৪ সালে এটি জাতীয়করণ করে এক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে “সরকারি সংগীত কলেজ, ঢাকা” নাম প্রদান করা হয়। তখন থেকে কলেজটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সংগীত বিষয়ে স্নাতক (Pass), সম্মান (Honours) ও স্নাতকোত্তর (Masters) পর্যায়ের ডিগ্রি প্রদান করছে।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি সংগীতচর্চার পাশাপাশি থিয়োরি, পারফর্মিং আর্টস, বাদ্যযন্ত্র, ধ্বনি বিজ্ঞান, লোকসংগীত ও ধ্রুপদী সংগীত বিষয়ে উচ্চমানের শিক্ষা প্রদান করছে। এর ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও প্রাক্তন শিল্পীরা দেশের টেলিভিশন, রেডিও, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক সংগীত মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

ষাট বছরেরও বেশি সময় ধরে এই কলেজ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলন, স্বাধীনতার সময়কার সংগীত প্রচারণা এবং পরবর্তীকালের সংগীতধারার বিকাশে এক অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। এখনও এটি কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয় বরং এক ঐতিহ্যের প্রতীক। যেখানে সুর, সাধনা ও সংস্কৃতি মিলেমিশে একাকার হয়েছে।