শিহাবুর রহমান (পীরগঞ্জ)
২৫ জুলাই, ২০২৬, 4:06 AM
পীরগঞ্জ পৌরসভায় জি আর চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য রংপুরের পীরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য কর্তৃক রংপুরের পীরগঞ্জের ১৫ টি ও ১ টি পৌরসভায় অগ্নিকাণ্ডসহ কালবৈশাখী ঝড় ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ জি আর (চাল) কর্মসূচির চাল বিতরণের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তি ২০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও পীরগঞ্জ পৌরসভায় দেওয়া হয়১০ কেজি করে চাল। সোমবার (১০ জুলাই) সকাল ১০ টায় পীরগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদাম (এলএসডি) থেকে এই চাল বিতরণ করা হয়।
পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডসহ কালবৈশাখী ঝড় ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় এই চাল বিতরণ করা হয়।
নিয়ম অনুযায়ী, পীরগঞ্জ পৌরসভার পৌর-সচিব আব্দুর রহমান রহিমের নামে ৬৮০ কেজি চালের একটি ডিও অনুমোদন করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস, উপজেলা খাদ্য গুদাম (এলএসডি) গোডাউনে প্রেরণ করা হয়। সেখান থেকে ২০ কেজি করে ৩৪ জনের মাঝে উক্ত চাল বিতরণের কথা থাকলেও পৌর সচিব আব্দুর রহিম ২১ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন।
নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ডিজিটাল স্কেল মিটারে ওজন করে ২০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও ৩ জন মিলে ৩০ কেজির একটি বস্তা দেয়া হয়। এক বস্তা চাল ৩ জনের মাঝে ১০ কেজি করে ভাগ করে দেয়া হয়। আর এই চাল মোট ২১ জনকে ১০ কেজি করে দেওয়া হয়। অবশিষ্ট থাকে আরও ৪৭০ কেজি চাল।
৮০ বছর বয়সী ছায়েরন বেগম থাকেন একটি জীর্ণ ঘরে। ২০ কেজি চাল পেলে হয়তো তার ২০ দিন চালের চিন্তা করতে হতো না। কিন্তু বরাদ্দকৃত চাল আনতে গিয়ে ফিরলেন ১০ কেজি চাল নিয়ে। তীব্র ক্ষোভ আর অসন্তোষ তার চোখে মুখে।
জরাজীর্ণ ঘরে প্রতিবন্ধী স্বামী, শাহালম মিয়া এবং দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন শিখা বেগম। পৌরসভা থেকে চাল পাবেন এই খবরে অনেকটা স্বস্তি এসেছিল তার মানে। বুকভরা আশা নিয়ে গিয়েছিলেন সেই চাল আনতে।
যথারীতি সবার মত ১০ কেজি করে চাল নিয়ে চলে আসেন তিনি। পরবর্তীতে জানতে পারেন প্রত্যেক ব্যক্তির নামে ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ হয়েছে এমন খবর শুনে অবাক হয়ে যান শিখা বেগম।
পীরগঞ্জ পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমেনা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে চলে তার দিন। ২০ কেজি চাল তার কাছে স্বপ্নের মত ছিল। কিন্তু চাল আনতে গেলে দেয়া হয় মাত্র ১০ কেজি। চোখে তখন তার বিষন্নতার ছাপ। আক্ষেপ করে বলেন, গরিবের হক মারতে সবাই হা করে থাকে।
এ বিষয়ে পৌর সচিব আব্দুর রহিম ১০ কেজি করে চাল বিতরণের কথাটি স্বীকার করেন।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
পীরগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, যেহেতু বিষয়টি ব্যাপক প্রচারিত হয়েছে আমি খোঁজ খবর নিয়ে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।