শিহাবুর রহমান (পীরগঞ্জ)
১৭ আগস্ট, ২০২৬, 8:46 PM
পীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের ড্রাইভারের সম্পত্তি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য
রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মণ্ডলের গাড়িচালক থেকে এখন তাঁরই স্ত্রী'র জমির মালিক বনে গেছেন আব্দুর রাজ্জাক প্রামাণিক নামে এক কর্মচারী। সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে বিপুল অঙ্কের টাকায় এই জমি ক্রয় করা হলেও এ বিষয়ে কিছুই জানে না অত্র উপজেলা প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মণ্ডলের গাড়িচালক হওয়ার সুবাদে ভাগ্যের চাকা বদলে ফেলেন আব্দুর রাজ্জাক। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালুস গ্রামে হলেও ২০১৯ইং সালে তিনি পীরগঞ্জ পৌরসভার ওসমানপুর গ্রামে ভোটার স্থানান্তর করেন।
নথিপত্র অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই ২০২৪ইং তারিখে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী লাইলি বেগমের মালিকানাধীন পীরগঞ্জ মৌজার (জেএল নং ১৮৩, বিএস দাগ নং ৮৭০) ১০.৮৫ শতাংশ দলা জমির মধ্যে ৫.৮৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন গাড়িচালক আব্দুর রাজ্জাক প্রামাণিক। দলিলে এই জমির মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র,১৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। যদিও বাজার দর অনেক বেশী সেখানেও সরকারকে ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।
তবে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯’-এর ১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী তাঁর কর্মস্থল বা নিজ এলাকায় ১৫ হাজার টাকার অধিক মূল্যের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয়, বিক্রয় বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রধান বা সরকারের পূর্বানুমতি নিতে বাধ্য। এছাড়া অধিনস্থ কর্মচারীর সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো লেনদেন হলে তা পরবর্তী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার বিধান রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, এই বিশাল অংকের জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিভাগীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান জানান, গাড়িচালকের জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে পূর্বানুমতি নেওয়া হয়েছে কি না সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
জমি ক্রয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে গাড়িচালক আব্দুর রাজ্জাক প্রামাণিক বলেন, “আমি দীর্ঘদিন তাঁর (সাবেক চেয়ারম্যান) অধীনে চাকরি করেছি, সেই সুবাদেই জমিটি ক্রয় করেছি।” তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে, কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।
নিয়ম বহির্ভূতভাবে এই সম্পদ অর্জন এবং লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে এ ধরনের লেনদেন তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবেন যথাযথ কর্তৃপক্ষ।