শোয়েব হোসেন
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, 10:25 PM
নামকরণের স্বার্থকতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৫৫ সালের ১২ই মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত তেজগাঁও এলাকায় মেয়েদের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা মেটাতে এই বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়।
প্রাথমিকভাবে এটি “তেজগাঁও পলিটেকনিক হাই স্কুল” নামে পরিচিত ছিল। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষার কিছু বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক হিসেবে নূর মোহাম্মদ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর দৃঢ় নেতৃত্বে স্কুলটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
বিদ্যালয়ের উন্নয়নে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অবদান অনস্বীকার্য। তমিজ উদ্দিন খান যিনি তখন তেজগাঁওয়ের একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক ছিলেন। স্কুলের জন্য প্রয়োজনীয় জমি সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। তাঁর প্রচেষ্টায় ভাওয়াল রাজার দান করা ২২ বিঘা জমি সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করে বিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে বরাদ্দ করা হয়।
পরবর্তীতে, ১৯৬৯ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম শহীদ লুৎফর রহমান এই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন যা বিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায় যোগ করে।
১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশ সরকার বিদ্যালয়টিকে সরকারি তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসে এবং “তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়” নামে পুনঃনামকরণ করে। এই নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারের মেয়েদের শিক্ষার প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রকাশ পায়।
“তেজগাঁও” শব্দটি শুধুমাত্র ভৌগোলিক পরিচয় বহন করে না এটি শিল্প ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে এলাকার উন্নয়নকেও নির্দেশ করে। “সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়” অংশটি নির্দেশ করে যে, এটি সরকার কর্তৃক পরিচালিত, বিশেষত মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে নিবেদিত একটি প্রতিষ্ঠান।
বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদের পরে, শাহরীন খান রূপা, আব্দুল রশীদ, মোঃ আনোয়ার হোসেন সহ একাধিক দক্ষ শিক্ষাবিদরা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের প্রত্যেকেরই শিক্ষার মান উন্নয়নে, বিজ্ঞানাগার ও কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনে এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রসারে উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
বর্তমানে বিদ্যালয়টি প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছে এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। আধুনিক শ্রেণীকক্ষ, সুসজ্জিত বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব এবং বিশাল গ্রন্থাগার নিয়ে সজ্জিত এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করছে।