নিশাত শাহরিয়ার
১৮ মে, ২০২৬, 8:04 AM
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হবেন না অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী পুনর্বহাল হলেও ভবিষ্যতে ওই সরকারে প্রধান হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিদের রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আইন কমিশনেও সাবেক বিচারপতিদের নিয়োগ না দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ এ সভার আয়োজন করে।
১৯৯৬ সালের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। বিধান করা হয়, সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হবেন নির্বাচনকালীন এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।
নানা ঘটনাপ্রবাহের পর ২০১০ সালে আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করেন। একই বছর পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাই বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকার।
জুলাই জাতীয় সনদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং তৃতীয় বৃহত্তম দলের প্রতিনিধিকে নিয়ে গঠিত বাছাই কমিটি একমত না হতে পারলে, দুজন বিচারপতি কমিটির সদস্য হবেন। এর পরও কমিটি কাউকে বাছাই করতে না পারলে র্যাঙ্ক চয়েজ ভোটে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন করা হবে। বাছাই কমিটিতে বিচারপতিদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং র্যাঙ্ক চয়েজ ভোটে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিএনপি।
জুলাই সনদে বলা হয়েছে, কোনো কারণে কমিটি প্রধান উপদেষ্টা বাছাই করতে না পারলে শেষ বিকল্প হিসেবে ত্রয়োদশ সংশোধনী কার্যকর হবে। এতে সাবেক প্রধান বিচারপতিদের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার সুযোগ থাকবে।
কিন্তু আইনমন্ত্রী এ সুযোগ রাখার বিরুদ্ধে। তিনি বলেছেন, প্রধান বিচারপতিদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বানানোর প্রয়োজন নেই। একজন প্রধান বিচারপতি অবসরে যাওয়ার পর দিন গুনতে থাকেন কবে তিনি ওই পদে যাবেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সদ্যসাবেক প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়া কিংবা অবসরের পর আইন কমিশনসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ পাওয়ার প্রত্যাশায় বিচারপতিরা কর্মক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা হারাচ্ছেন।
লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের আয়োজনে এই সভায় উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর ও সানজিদা ইসলাম তুলি, ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর, সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী, মানবাধিকারকর্মী নূর খান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, জেলা ও দায়রা জজ শামসুদ্দিন মাসুম, ব্লাস্টের লুবনা ইয়াসমীন, মানবাধিকারকর্মী সঞ্জীব দ্রং, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরসহ আইন মন্ত্রণালয়ের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা।