ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
হরিপুরে বিদ্যুৎ স্পষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যু নেতৃত্বের গল্প শোনাতে তানজানিয়া যাচ্ছেন শ্যামনগরের অপর্ণা মল্লিক কালীগঞ্জে সৌদী বাদশাহ’র খেজুর পেল ৩০ মাদ্রাসা ও এতিমখানা ভোলা জেলা পুলিশের আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত পোরশা থানায় ইফতার মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত লাকসাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোজ খাদ্যে ব্যবহারে জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান সিলগালা জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব প্রসঙ্গে গণতন্ত্রী পার্টির বিবৃতি এক ফসলা বৃষ্টিতে প্রান ফিরেছে চা বাগানে আশুলিয়ায় সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

এক ফসলা বৃষ্টিতে প্রান ফিরেছে চা বাগানে

#

তিমির বনিক (মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি)

১৬ মার্চ, ২০২৬,  3:42 AM

news image

সূর্যের আলো তখন পুরোপুরি ঝলকানি নেই। কুয়াশা ভেজা সবুজ গালিচার মতো ছড়িয়ে থাকা চা বাগানের পাতাগুলো যেন নিঃশব্দে অপেক্ষা করছিল। অনেক দিন ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা সেই অপেক্ষার শেষ হলো এক ফসলা বৃষ্টিভেজা সকাল।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের চা বাগানগুলোতে শুক্রবার নেমে এলো কাঙ্খিত বৃষ্টি। দীর্ঘ খরার পর সেই বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেল ক্লান্ত গাছগুলোর শরীরে। ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে পড়ল ৩.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি। তারপর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা—আরও জোরে নামল বৃষ্টি, ৩২.৫ মিলিমিটার।

সব মিলিয়ে দিনের শেষে রেকর্ড হলো ৩৬.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। বাগানের শ্রমিকেরা যখন ভেজা মাটিতে পা রাখলেন, তাদের চোখেমুখে ফুটে উঠল স্বস্তির হাসি। এতদিন ধরে শুষ্ক হয়ে থাকা মাটিতে আবার ফিরে এসেছে আর্দ্রতা। ছাঁটাই করা গাছগুলো যেন নতুন করে নিশ্বাস নিতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামীম আল-মামুন বলেন, চা গাছের বেড়ে ওঠা আর পাতা উৎপাদনের জন্য বৃষ্টি অত্যান্ত জরুরি। বছরে দুই হাজার মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত চা শিল্পের জন্য আদর্শ। আর একটি পরিণত চা গাছ শীতকালে গড়ে ১.৩ মিলিমিটার এবং গ্রীষ্মকালে প্রায় ৬ মিলিমিটার পানি প্রয়োজন হয়। গত জানুয়ারি থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক বাগানেই সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। কোথাও পানির উৎস নেই, কোথাও জলাধার শুকিয়ে গেছে। ফলে স্প্রিঙ্কলার সেচ ব্যবস্থাও অনেক জায়গায় অচল হয়ে পড়েছিল।কিন্তু প্রকৃতির এই হঠাৎ দান যেন সব চিন্তা দূর করে দিল। এখন বাগানের ডালপালায় ধীরে ধীরে উঁকি দেবে সেই কাঙ্খিত দৃশ্য—‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’। দীর্ঘ খরার পর শ্রীমঙ্গলের চা বাগানগুলো আবারূ সবুজে ভরে ওঠার অপেক্ষায়। আর বাগানজুড়ে শ্রমিকদের চোখে এখন একটাই স্বপ্ন—নতুন মৌসুমে কুঁড়ি ভরা ঝুড়ী নিয়ে ফিরবে প্রাণবন্ত দিনগুলো। ফলনে যেমন মালিকরা উপকৃত হবে তেমনি আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হবে না।